ক্যান্সার রোগী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে এক ক্যান্সার রোগী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোগীর সন্ধানে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, নির্ধারিত ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীকে খুঁজে না পেয়ে তারা প্রথমে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ, করিডোর এবং আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালান। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না মেলায় বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর হাসপাতালের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরাও অনুসন্ধানে যুক্ত হন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগী কীভাবে ও কখন ওয়ার্ড থেকে বের হয়েছেন, সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাসপাতালের প্রবেশ ও বহির্গমন পথের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সময়ক্রম জানার চেষ্টা চলছে। কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল ছিলেন। নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা ছাড়া তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ কারণে যত দ্রুত সম্ভব তাকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের আশপাশের এলাকা, গণপরিবহন স্ট্যান্ড এবং সম্ভাব্য অন্যান্য স্থানের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নিখোঁজ ব্যক্তির ছবি ও পরিচয় বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে অনুসন্ধান আরও জোরদার করা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিখোঁজের পেছনে কোনো দুর্ঘটনা, মানসিক বিভ্রান্তি বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোগীর মোবাইল ফোন, স্বজনদের দেওয়া তথ্য এবং হাসপাতালের রেকর্ডও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোগী নিখোঁজের ঘটনায় একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও আরও জোরদার করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দ্রুত রোগীর সন্ধান পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে যাচাই না করা তথ্য বা গুজব প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
বর্তমানে ক্যান্সার রোগী নিখোঁজ ঘটনাটি তদন্তাধীন। রোগীর অবস্থান শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পরিবারের সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




























