ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার আসল কারণ কী?

মুখে দুর্গন্ধের পেছনে থাকতে পারে দাঁত, মাড়ি বা অন্য স্বাস্থ্যগত কারণ। ছবি: সংগৃহীত

মুখে দুর্গন্ধ শুধু সামাজিক অস্বস্তির কারণ নয়, কখনো কখনো এটি মুখের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, পেটের সমস্যা থেকেই মুখে দুর্গন্ধ হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর উৎস থাকে মুখের ভেতরেই। দাঁত ও মাড়িতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া, জিহ্বার ওপর আবরণ, দাঁতের ক্ষয় কিংবা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো কারণেও দুর্গন্ধ হতে পারে।

মুখের ভেতরে খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া জমে গেলে বিভিন্ন দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জিহ্বার পেছনের অংশে ব্যাকটেরিয়া ও আবরণ জমলে শ্বাসে বাজে গন্ধ দেখা দিতে পারে। তাই শুধু দাঁত ব্রাশ করলেই হবে না, জিহ্বাও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার।

মাড়ির রোগ ও দাঁতের সমস্যাও মুখে দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ। দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকা, প্লাক তৈরি হওয়া কিংবা মাড়িতে প্রদাহ থাকলে দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ থাকতে পারে। এমন সমস্যা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরও না কমলে দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

তবে মুখে দুর্গন্ধ সবসময় মুখের সমস্যার কারণেই হবে এমন নয়। গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বা GERD-এর মতো কিছু পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দুর্গন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালি দিয়ে ওপরে উঠে এলে মুখে টক স্বাদ, বুকজ্বালা বা অস্বস্তির পাশাপাশি দুর্গন্ধও দেখা দিতে পারে।

দুর্গন্ধ কমাতে প্রথমেই নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, জিহ্বা পরিষ্কার এবং দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মুখ শুকিয়ে গেলে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। ধূমপান এবং অতিরিক্ত দুর্গন্ধযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাও উপকারী।

খাবারের পরপরই শুয়ে না পড়া এবং রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে মুখে দুর্গন্ধ থাকলে শুধু মাউথওয়াশ ব্যবহার করে সমস্যাটি ঢেকে না রেখে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। প্রয়োজনে প্রথমে একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন; মুখের সমস্যা না থাকলে চিকিৎসকের মাধ্যমে অন্য কারণ পরীক্ষা করা যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার আসল কারণ কী?

Update Time : ১০:২৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

মুখে দুর্গন্ধ শুধু সামাজিক অস্বস্তির কারণ নয়, কখনো কখনো এটি মুখের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, পেটের সমস্যা থেকেই মুখে দুর্গন্ধ হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর উৎস থাকে মুখের ভেতরেই। দাঁত ও মাড়িতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া, জিহ্বার ওপর আবরণ, দাঁতের ক্ষয় কিংবা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো কারণেও দুর্গন্ধ হতে পারে।

মুখের ভেতরে খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া জমে গেলে বিভিন্ন দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জিহ্বার পেছনের অংশে ব্যাকটেরিয়া ও আবরণ জমলে শ্বাসে বাজে গন্ধ দেখা দিতে পারে। তাই শুধু দাঁত ব্রাশ করলেই হবে না, জিহ্বাও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার।

আরও পড়ুন  আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ক্যামেরা আপগ্রেড

মাড়ির রোগ ও দাঁতের সমস্যাও মুখে দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ। দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকা, প্লাক তৈরি হওয়া কিংবা মাড়িতে প্রদাহ থাকলে দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ থাকতে পারে। এমন সমস্যা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরও না কমলে দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

তবে মুখে দুর্গন্ধ সবসময় মুখের সমস্যার কারণেই হবে এমন নয়। গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বা GERD-এর মতো কিছু পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দুর্গন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালি দিয়ে ওপরে উঠে এলে মুখে টক স্বাদ, বুকজ্বালা বা অস্বস্তির পাশাপাশি দুর্গন্ধও দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  ডায়াবেটিসে কোন মাছ খাবেন? জেনে নিন সেরা ৫ মাছ

দুর্গন্ধ কমাতে প্রথমেই নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, জিহ্বা পরিষ্কার এবং দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মুখ শুকিয়ে গেলে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। ধূমপান এবং অতিরিক্ত দুর্গন্ধযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাও উপকারী।

খাবারের পরপরই শুয়ে না পড়া এবং রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে মুখে দুর্গন্ধ থাকলে শুধু মাউথওয়াশ ব্যবহার করে সমস্যাটি ঢেকে না রেখে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। প্রয়োজনে প্রথমে একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন; মুখের সমস্যা না থাকলে চিকিৎসকের মাধ্যমে অন্য কারণ পরীক্ষা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন  মাটির ফিল্টারে পানি ঠান্ডা: বিদ্যুৎ ছাড়াই প্রাকৃতিক সমাধান