পরকীয়ার পর ডিভোর্স অনেকের কাছে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত মনে হলেও বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানার পরও অনেক স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন না। এর পেছনে থাকতে পারে আবেগ, সন্তান, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সামাজিক চাপ কিংবা নতুন করে জীবন শুরু করার ভয়।
১. সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা
সন্তান থাকলে সিদ্ধান্তটি আরও কঠিন হয়ে যায়। মা-বাবার বিচ্ছেদ সন্তানের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তার পড়াশোনা, মানসিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব চিন্তা অনেক নারীকে সংসার ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে দিতে পারে।
২. দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মায়া
একসঙ্গে ১০-১৫ বছর বা তারও বেশি সময় কাটানোর পর সম্পর্কটি শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তৈরি হয় অভ্যাস, বন্ধুত্ব, পারিবারিক দায়িত্ব ও অসংখ্য স্মৃতি। তাই বিশ্বাসে আঘাত এলেও পুরোনো সম্পর্কের টান সহজে শেষ হয় না।
৩. নতুন করে জীবন শুরু করার ভয়
বিচ্ছেদের পর কোথায় থাকবেন, কীভাবে সন্তানকে সামলাবেন, সমাজ কী বলবে কিংবা ভবিষ্যতে কী হবে, এসব প্রশ্ন অনেকের মনে ভয় তৈরি করে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন সংসারকেন্দ্রিক জীবন কাটানো নারীদের জন্য পরিবর্তনটি আরও কঠিন হতে পারে।
৪. আর্থিক বিষয়ও বড় কারণ
সব নারী আর্থিকভাবে স্বনির্ভর নন। সংসার, সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকের নিজের ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে না। ফলে বিচ্ছেদের পর জীবনযাত্রার খরচ চালানো বা সন্তানকে বড় করার বিষয়টি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৫. সঙ্গীকে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা
কেউ কেউ মনে করেন, ভুলের পরও সম্পর্কটি একবার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। স্বামী যদি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং সম্পর্কের প্রতি আন্তরিক হন, তাহলে কেউ কেউ কাউন্সেলিং, আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
৬. ভালোবাসা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না
বিশ্বাসভঙ্গের পর রাগ, কষ্ট ও অভিমান তৈরি হলেও ভালোবাসা সবসময় সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না। একজন মানুষ একই সঙ্গে সঙ্গীর ওপর ক্ষুব্ধ এবং তার প্রতি আবেগপ্রবণও থাকতে পারেন। এই দ্বন্দ্বই অনেক সময় বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে জটিল করে তোলে।
৭. সামাজিক চাপ ও পরিবারের ভূমিকা
‘সংসার টিকিয়ে রাখো’, ‘মানুষ কী বলবে’ কিংবা ‘সন্তানের কথা ভাবো’ ধরনের সামাজিক চাপও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার দুই পরিবারের সদস্যরা সম্পর্কটি ভেঙে না দিয়ে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিতে পারেন।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, পরকীয়ার পর ডিভোর্স করতেই হবে বা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই হবে, এমন কোনো একক সিদ্ধান্ত সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। প্রতিটি দাম্পত্য সম্পর্ক আলাদা। কেউ বিচ্ছেদকে নিজের জন্য সঠিক মনে করেন, আবার কেউ আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন।
বিশ্বাসভঙ্গের পর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইলে দুজনেরই খোলামেলা যোগাযোগ, দায়িত্ব নেওয়া এবং বিশ্বাস পুনর্গঠনের আন্তরিক চেষ্টা প্রয়োজন। আর সম্পর্কের মধ্যে নির্যাতন, ভয় বা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


























