ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জামায়াতের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:০৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৯

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জনগণের দুর্ভোগ ও সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর দাবি, সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের অজুহাত না দেখিয়ে সরকারের হাতে থাকা বাজেট থেকেই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। এখন জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করতে হবে। তাঁর মতে, জরুরি খাতের অর্থ ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব। সংকট মোকাবিলায় ১০ বছর বা দুই বছর সময় লাগবে—এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে মানুষকে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ভুতুড়ে বিল বন্ধ করা এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, এসব খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় ও অপচয় হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে সিন্ডিকেট ও অনিয়ম বন্ধ করা গেলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যের মধ্যেও সংকট সমাধানের সময়সীমা নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কেউ দুই বছরের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন, আবার কেউ ১০ বছরের সময়ের কথা বলছেন। এ ধরনের বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, তাঁর দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। কারণ বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু সরকারের ওপর পড়ে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ওপর। রান্নার জন্য গ্যাস বা জ্বালানি না পাওয়া পরিবার যেমন সমস্যায় পড়ে, তেমনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। এতে সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়ে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাঁর দল প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব সরকারের কাছে দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের দুর্ভোগকে রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে না রেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তন, ২–৩ বছরেই নতুন পরিকল্পনা

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জামায়াতের

Update Time : ১০:০৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জনগণের দুর্ভোগ ও সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর দাবি, সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের অজুহাত না দেখিয়ে সরকারের হাতে থাকা বাজেট থেকেই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। এখন জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করতে হবে। তাঁর মতে, জরুরি খাতের অর্থ ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব। সংকট মোকাবিলায় ১০ বছর বা দুই বছর সময় লাগবে—এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে মানুষকে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা জামায়াতে ইসলামীর

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ভুতুড়ে বিল বন্ধ করা এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, এসব খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় ও অপচয় হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে সিন্ডিকেট ও অনিয়ম বন্ধ করা গেলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যের মধ্যেও সংকট সমাধানের সময়সীমা নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কেউ দুই বছরের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন, আবার কেউ ১০ বছরের সময়ের কথা বলছেন। এ ধরনের বক্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

আরও পড়ুন  শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে সেই বিএনপি নেতার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, তাঁর দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। কারণ বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু সরকারের ওপর পড়ে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ওপর। রান্নার জন্য গ্যাস বা জ্বালানি না পাওয়া পরিবার যেমন সমস্যায় পড়ে, তেমনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। এতে সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়ে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন  আট অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাঁর দল প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব সরকারের কাছে দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের দুর্ভোগকে রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে না রেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।