ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত চাঁদপুরে ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ৫২৫

চিত্রঃ চাঁদপুরে ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ করছে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। (সংগৃহীত)

চাঁদপুরে ৫ হাজার পরিবারে কোরবানির মাংস বিতরণের মাধ্যমে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জেলার বিভিন্ন পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের উদ্যোগে কোরবানিকৃত পশুর মাংস অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং বহু পরিবার ঈদের দিনে কোরবানির মাংস পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

 

জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিসরে কোরবানির আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পশু আল্লাহর নামে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এসব পশুর মাংস সংগ্রহ করে তালিকাভুক্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি এবং পৌর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যেসব পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে কোরবানি দিতে পারেনি, তাদের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার আল-আমিন মডেল মাদরাসা প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অসহায় পরিবারের সদস্যদের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়জী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, সেক্রেটারি শেখ বেলায়েত হোসেন, যুগ্ম সেক্রেটারি মোহাম্মদ সবুজ খান, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শেখ আবুল খায়ের মোহাম্মদ সালেহ, সমাজসেবক আব্দুর শুক্কুর মাস্তান এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতারা।

 

সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র শহর জামায়াতের উদ্যোগেই প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি ষাঁড় ক্রয় করা হয়। পরে এসব পশু কোরবানি করে মাংস সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার মাধ্যমে শত শত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শহর এলাকায় কোরবানি দিতে না পারা পাঁচ শতাধিক পরিবার সরাসরি এই সহায়তা পেয়েছে। জেলা জুড়ে পরিচালিত এই কার্যক্রমে কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মাংস পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকেরা সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি মাংস পৌঁছে দেন, যাতে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট করতে না হয়।

 

শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা হয়েছে। কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই লক্ষ্য থেকেই সমাজের অসচ্ছল মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ঈদের আনন্দ যেন শুধু সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের কাছে মাংস পৌঁছে দিয়েছেন এবং পুরো কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়জী বলেন, বহু বছর ধরে সংগঠনটি এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সমাজের এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কোরবানি দিতে পারে না। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে শতাধিক পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এসব পশুর মাংস পর্যায়ক্রমে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যদি এভাবে অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ঈদের আনন্দ আরও বিস্তৃত হবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে। ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবসেবা। চাঁদপুরে ৫ হাজার পরিবারে কোরবানির মাংস বিতরণের এই উদ্যোগ সেই শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য মানুষের ঘরে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিয়ে ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে জামায়াতের এই কর্মসূচি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত চাঁদপুরে ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিল

Update Time : ০৮:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

চাঁদপুরে ৫ হাজার পরিবারে কোরবানির মাংস বিতরণের মাধ্যমে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জেলার বিভিন্ন পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের উদ্যোগে কোরবানিকৃত পশুর মাংস অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং বহু পরিবার ঈদের দিনে কোরবানির মাংস পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

 

জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিসরে কোরবানির আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পশু আল্লাহর নামে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এসব পশুর মাংস সংগ্রহ করে তালিকাভুক্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি এবং পৌর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যেসব পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে কোরবানি দিতে পারেনি, তাদের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের, উত্তেজনায় নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যে

 

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার আল-আমিন মডেল মাদরাসা প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অসহায় পরিবারের সদস্যদের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়জী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, সেক্রেটারি শেখ বেলায়েত হোসেন, যুগ্ম সেক্রেটারি মোহাম্মদ সবুজ খান, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শেখ আবুল খায়ের মোহাম্মদ সালেহ, সমাজসেবক আব্দুর শুক্কুর মাস্তান এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতারা।

 

সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র শহর জামায়াতের উদ্যোগেই প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি ষাঁড় ক্রয় করা হয়। পরে এসব পশু কোরবানি করে মাংস সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার মাধ্যমে শত শত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শহর এলাকায় কোরবানি দিতে না পারা পাঁচ শতাধিক পরিবার সরাসরি এই সহায়তা পেয়েছে। জেলা জুড়ে পরিচালিত এই কার্যক্রমে কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মাংস পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকেরা সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি মাংস পৌঁছে দেন, যাতে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট করতে না হয়।

আরও পড়ুন  শরীয়তপুরে ঈদ: ৫০ গ্রামে আজ উদযাপন

 

শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা হয়েছে। কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই লক্ষ্য থেকেই সমাজের অসচ্ছল মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ঈদের আনন্দ যেন শুধু সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের কাছে মাংস পৌঁছে দিয়েছেন এবং পুরো কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়জী বলেন, বহু বছর ধরে সংগঠনটি এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সমাজের এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কোরবানি দিতে পারে না। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে শতাধিক পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এসব পশুর মাংস পর্যায়ক্রমে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন  ঈদে শহীদ পরিবারের পাশে সাদিক কায়েম, পৌঁছে দিলেন উপহার

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যদি এভাবে অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ঈদের আনন্দ আরও বিস্তৃত হবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে। ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবসেবা। চাঁদপুরে ৫ হাজার পরিবারে কোরবানির মাংস বিতরণের এই উদ্যোগ সেই শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য মানুষের ঘরে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিয়ে ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে জামায়াতের এই কর্মসূচি।