ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এখনো সাজিদের গেঞ্জি বুকে নিয়েই ঘুমাই: শহীদের মা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৩৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

শহীদ সাজিদের মায়ের আবেগঘন বক্তব্য। (ছবি: সংগৃহীত)

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তাঁর মা লিপি বেগম। তিনি বলেন, প্রতিদিন রাতে ছেলের একটি গেঞ্জি বুকে জড়িয়ে ঘুমান, কারণ সেটিই এখন তাঁর একমাত্র সান্ত্বনা। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে লিপি বেগম বলেন, যদি তাঁর ছেলে বেঁচে থাকত, তাহলে আজ তিনি অতিথি হিসেবে আসতেন না। তাঁর ভাষায়, আজ তিনি এখানে এসেছেন একজন শহীদের মা হিসেবে, আর সেই পরিচয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা।

কথা বলতে বলতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, সাজিদ ২০২৪ সালের আগস্টে শহীদ হন। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁর স্বামীও মারা যান। একমাত্র ছেলে ও স্বামীকে হারানোর পর এখন তিনি শুধু মেয়েকে নিয়ে বেঁচে আছেন। তবে এই জীবনকে তিনি প্রকৃত অর্থে বেঁচে থাকা মনে করেন না।

লিপি বেগম আরও বলেন, সাজিদ ছিল তাঁর একমাত্র ছেলে। ছেলেকে হারানোর পর প্রতিটি দিন তাঁর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, প্রতিদিন রাতে সাজিদের একটি গেঞ্জি বুকে নিয়ে ঘুমান। সেই গেঞ্জির মধ্যেই তিনি ছেলের স্মৃতি অনুভব করেন এবং এটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় মানসিক আশ্রয় হয়ে আছে।

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হওয়া গেন্ডারিয়ার শিশু শাহরিয়ার খান আনাসের মা। এছাড়া শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব শাহীন মিয়া ও মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ। পুরো আয়োজনজুড়েই শহীদদের স্মরণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

এখনো সাজিদের গেঞ্জি বুকে নিয়েই ঘুমাই: শহীদের মা

Update Time : ০৪:৩৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তাঁর মা লিপি বেগম। তিনি বলেন, প্রতিদিন রাতে ছেলের একটি গেঞ্জি বুকে জড়িয়ে ঘুমান, কারণ সেটিই এখন তাঁর একমাত্র সান্ত্বনা। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে লিপি বেগম বলেন, যদি তাঁর ছেলে বেঁচে থাকত, তাহলে আজ তিনি অতিথি হিসেবে আসতেন না। তাঁর ভাষায়, আজ তিনি এখানে এসেছেন একজন শহীদের মা হিসেবে, আর সেই পরিচয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা।

আরও পড়ুন  ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদারে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কথা বলতে বলতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, সাজিদ ২০২৪ সালের আগস্টে শহীদ হন। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁর স্বামীও মারা যান। একমাত্র ছেলে ও স্বামীকে হারানোর পর এখন তিনি শুধু মেয়েকে নিয়ে বেঁচে আছেন। তবে এই জীবনকে তিনি প্রকৃত অর্থে বেঁচে থাকা মনে করেন না।

লিপি বেগম আরও বলেন, সাজিদ ছিল তাঁর একমাত্র ছেলে। ছেলেকে হারানোর পর প্রতিটি দিন তাঁর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, প্রতিদিন রাতে সাজিদের একটি গেঞ্জি বুকে নিয়ে ঘুমান। সেই গেঞ্জির মধ্যেই তিনি ছেলের স্মৃতি অনুভব করেন এবং এটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় মানসিক আশ্রয় হয়ে আছে।

আরও পড়ুন  কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল, অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।

আরও পড়ুন  ছুটি না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষককে মারধর সহকারী শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হওয়া গেন্ডারিয়ার শিশু শাহরিয়ার খান আনাসের মা। এছাড়া শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব শাহীন মিয়া ও মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ। পুরো আয়োজনজুড়েই শহীদদের স্মরণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।