ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের যে সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়েছিল, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইউপি নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হতে পারে। ফলে আগের ঘোষিত সময়সূচিকে এখনই চূড়ান্ত ভোটের ক্যালেন্ডার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ইসির পক্ষ থেকে সোমবার সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। এতে প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর হতে পারে বলে জানানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোট আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া হয়েছিল। তবে কমিশনের পক্ষ থেকেই এখন বলা হচ্ছে, এসব তারিখ প্রাথমিক পর্যায়ের এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ ধাপের ভোট আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চম ধাপের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি এবং ষষ্ঠ ধাপের জন্য ২২ এপ্রিল সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ অর্থাৎ সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা ও সমন্বয়ের পর এসব তারিখে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ভোটার ও প্রার্থীদের এখনই নির্দিষ্ট তারিখ ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার আগে ইসির চূড়ান্ত ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মঙ্গলবার সকালে বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের যে সময়সূচির কথা ইসি জানিয়েছে, সেটি সরকারের জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে আলোচনা হয়নি।
এর আগে ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। সম্ভাব্য সময়সূচিতে নভেম্বর থেকে শুরু করে পরবর্তী বছরের মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপক পরিসর বিবেচনায় নিয়ে একসঙ্গে সব এলাকায় ভোট না করে কয়েক ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই সময়সূচিকে সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবেই দেখতে হবে।
সব মিলিয়ে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সাত ধাপে ভোট আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন তারিখে কোন ধাপের নির্বাচন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ভোটার, সম্ভাব্য প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের তাই ইসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।



























