আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দেশের শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া সংকটের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফেরার আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী শিল্পে গ্যাসের চাপ এবং বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়লে কারখানাগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট একদিনেই পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে আশার কথা জানানো হয়। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নতুন সংকট শুরুর আগের অবস্থায় ফেরার প্রত্যাশা রয়েছে। বৈঠকে শিল্প খাতের বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হলে উৎপাদন স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি এক থেকে দেড় মাস আগের পর্যায়ে ফিরে যেতে পারে। ফলে যেসব শিল্পকারখানা কম চাপের কারণে উৎপাদন কমিয়েছে, তারা পর্যায়ক্রমে সুবিধা পেতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিংয়ের চাপও কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতির মাত্রা একরকম নাও হতে পারে।
গত কয়েক মাস ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে স্পিনিং, ডাইং, নিটিং ও অন্যান্য গ্যাসনির্ভর কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় আরও বেড়েছে। তাই গ্যাসের চাপ বাড়ানোর ঘোষণা শিল্প মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সংকটের অন্যতম কারণ ছিল দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা। সরকার জানিয়েছে, ওই সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং এলএনজি সরবরাহও বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চমূল্য এখনো বাংলাদেশের জন্য বড় চাপ হয়ে আছে।
বর্তমানে উচ্চ এলএনজি মূল্য এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকারের ভর্তুকির ব্যয়ও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়ায় ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুধু সাময়িক সরবরাহ বাড়ানো নয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার কথা জানিয়েছে। নতুন এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত করা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং নতুন কূপ খননের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে শিল্প খাতের জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
তাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্পকারখানার জন্য পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পুরো সংকট কেটে যাচ্ছে এমনটি বলা এখনই ঠিক হবে না। বাস্তবে কতটা উন্নতি হলো, তা বোঝা যাবে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যবেক্ষণের পর। উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত শিল্প মালিকদের নজর থাকবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা বদলায় সেদিকে।



























