নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন কবে জারি হবে—এ প্রশ্ন এখন সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় অপেক্ষা বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুরো প্রক্রিয়া থেমে নেই। অনুমোদনের পর এখন বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রক্রিয়া এগোবে।
নতুন পে স্কেলের খসড়া প্রজ্ঞাপন তৈরির কাজ বর্তমানে অর্থ বিভাগে চলছে। শুধু বেতন কত বাড়বে, সেটিই নয়; কোন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী কীভাবে নতুন কাঠামোর আওতায় আসবেন, তার বিস্তারিত নির্দেশনাও নির্ধারণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক বিশেষ আদেশ বা এসআরও জারি হতে পারে। ফলে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন তৈরিতে কিছুটা সময় লাগছে।
এবারের নতুন পে স্কেলে বর্তমান ২০টি গ্রেড কাঠামো বহাল রাখার কথা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্যাডার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীর জন্য আলাদা নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়গুলোও আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, পে স্কেল বাস্তবায়নের নির্ধারিত ধাপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রথমে সচিব কমিটি সুপারিশ পর্যালোচনা করেছে, এরপর মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন দিয়েছে। এখন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরবর্তী কাজ চলছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কি না—এমন প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। অর্থাৎ বিলম্ব হলেও প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যাচ্ছে বলেই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কয়েক মাস সময় লেগেছিল। প্রজ্ঞাপনের প্রতিটি শব্দ, আইনি পরিভাষা এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা যাচাই করার প্রয়োজন হয়েছিল। এবারও একইভাবে খসড়া প্রজ্ঞাপনের বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাবেক সচিব এ কে এস এম আব্দুল আউয়াল মজুমদারের মতে, পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে বাস্তবায়ন যদি ধাপে ধাপে করা হয়, সে বিষয়েও সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি। তবে অর্থ বিভাগ খসড়া প্রস্তুত করছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় ধাপ শেষ হওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা। এদিকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পেনশন’ পদ্ধতি চালুর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের তথ্যসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এটি পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই সরকারি চাকরিজীবীদের এখন মূল অপেক্ষা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের।



























