ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির Logo গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: জনগণের বিভাজন চক্রান্ত ঠেকাতে তথ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা পরিদর্শন: নগর তদারকির ৭ গুরুত্বপূর্ণ দিক Logo গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা Logo শিক্ষিকার নামের বানান ভুল করায় শিক্ষার্থীকে ৩০০ বার লেখার শাস্তি Logo জুলাই শহীদ রিতার কবর জিয়ারত করলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী Logo নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে চাচ্ছে ম্যানসিটি Logo ভিন্নমতকে যখন হুমকি মনে করা হয় : পাকিস্তানের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শিক্ষণীয় Logo নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলন, ১৪৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সরকারের বিবেচনায় দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৮১

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি ও বিবেচনার বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দেন মন্ত্রী — ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক ধাপে নয়, বরং ধাপে ধাপে আয়োজন করা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়কে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া না হলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে নিচ্ছে যাতে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়।

অন্যদিকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়েও সংসদে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ফরিদপুর বিভাগে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে ঢাকা বিভাগের অধীনে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)।

এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩,৮২৫.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব যন্ত্র কেনা হয় এবং প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে নির্বাচন কমিশন থেকে। কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতের জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এসব মেশিন বিভিন্ন গুদামে, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে দাখিল করা হলেও মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনও বাকি রয়েছে। পাশাপাশি অডিট বিভাগ কিছু আপত্তি উত্থাপন করেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নির্বাচনী সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন—সবকিছুই একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সরকারের বিবেচনায় দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

Update Time : ০৪:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক ধাপে নয়, বরং ধাপে ধাপে আয়োজন করা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়কে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  মির্জা ফখরুল গণমাধ্যম নিয়ে যা বললেন, শক্তিশালী গণমাধ্যমেই শক্তিশালী গণতন্ত্র

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া না হলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে নিচ্ছে যাতে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়।

অন্যদিকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়েও সংসদে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ফরিদপুর বিভাগে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে ঢাকা বিভাগের অধীনে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের লুটপাটে শূন্য থেকে শুরু বিএনপি সরকারের ,মির্জা ফখরুলের দাবি

এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩,৮২৫.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব যন্ত্র কেনা হয় এবং প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে নির্বাচন কমিশন থেকে। কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতের জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এসব মেশিন বিভিন্ন গুদামে, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।

আরও পড়ুন  স্থানীয় নির্বাচন এক বছরের মধ্যে শেষ করতে চায় ইসি

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে দাখিল করা হলেও মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনও বাকি রয়েছে। পাশাপাশি অডিট বিভাগ কিছু আপত্তি উত্থাপন করেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নির্বাচনী সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন—সবকিছুই একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।