ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিতর্ক পেরিয়ে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের রেফারি ভিনচিচ Logo বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা, মুগ্ধ ব্রাজিলের মিডিয়া Logo বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ আজ, কখন ও কোথায় দেখবেন Logo ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে কে জিতবে? সুপারকম্পিউটারের চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী Logo ৮৮ বছরের রেকর্ড ধরে রাখতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিল Logo বিশ্বকাপের আগে স্বস্তি, ফিটনেস নিয়ে সুখবর দিলেন মার্তিনেজ Logo বড় সুখবর,বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে স্থিতিশীলতার বার্তা Logo দিনে কখন ও কতটুকু আম খাওয়া ভালো জেনে নিন Logo গণ-অভ্যুত্থান সতর্কবার্তা নিয়ে নাহিদ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য Logo মুখস্থনির্ভর শিক্ষা বদলে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ছে সরকার

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সরকারের বিবেচনায় দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫১

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি ও বিবেচনার বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দেন মন্ত্রী — ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক ধাপে নয়, বরং ধাপে ধাপে আয়োজন করা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়কে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া না হলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে নিচ্ছে যাতে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়।

অন্যদিকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়েও সংসদে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ফরিদপুর বিভাগে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে ঢাকা বিভাগের অধীনে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)।

এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩,৮২৫.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব যন্ত্র কেনা হয় এবং প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে নির্বাচন কমিশন থেকে। কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতের জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এসব মেশিন বিভিন্ন গুদামে, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে দাখিল করা হলেও মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনও বাকি রয়েছে। পাশাপাশি অডিট বিভাগ কিছু আপত্তি উত্থাপন করেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নির্বাচনী সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন—সবকিছুই একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক পেরিয়ে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের রেফারি ভিনচিচ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সরকারের বিবেচনায় দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

Update Time : ০৪:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক ধাপে নয়, বরং ধাপে ধাপে আয়োজন করা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়কে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  এক-এগারোর মানবতাবিরোধী অপরাধে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া না হলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে নিচ্ছে যাতে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়।

অন্যদিকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়েও সংসদে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ফরিদপুর বিভাগে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে ঢাকা বিভাগের অধীনে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)।

আরও পড়ুন  স্থানীয় নির্বাচন এক বছরের মধ্যে শেষ করতে চায় ইসি

এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩,৮২৫.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব যন্ত্র কেনা হয় এবং প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে নির্বাচন কমিশন থেকে। কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতের জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এসব মেশিন বিভিন্ন গুদামে, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।

আরও পড়ুন  ঈদে শহীদ পরিবারের পাশে সাদিক কায়েম, পৌঁছে দিলেন উপহার

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে দাখিল করা হলেও মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনও বাকি রয়েছে। পাশাপাশি অডিট বিভাগ কিছু আপত্তি উত্থাপন করেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নির্বাচনী সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন—সবকিছুই একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।