ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এলপিজি কার্ড নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত Logo বিশ্বজুড়ে আলোচনায় “মাইকেল জ্যাকসনের” বায়োপিক Logo রাজধানীতে সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬ জন Logo কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা মামলায় কী বলল আসামিরা Logo এনবিআর চেয়ারম্যানের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য Logo হত্যার আগে প্রযুক্তি থেকে তথ্য খোঁজার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত দুই বাংলাদেশির মামলা Logo রাবি কলা অনুষদে মেধাবীদের স্বীকৃতি, ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ১৬ শিক্ষার্থী Logo বাংলাবান্ধায় বিপুল ডলারসহ ভারতীয় নাগরিক আটক Logo মুচমুচে বেগুন ভাজা: ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ারে তৈরি সেরা রেসিপি Logo কেনাকাটার সাথে প্রিয় তারকা: গার্লস প্রায়োরিটির ঈদ মেলায় আসছেন কেয়া পায়েল

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সরকারের বিবেচনায় দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

  • Md Abdur Rahman
  • Update Time : ০৪:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৫

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি ও বিবেচনার বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দেন মন্ত্রী — ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক ধাপে নয়, বরং ধাপে ধাপে আয়োজন করা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়কে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া না হলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে নিচ্ছে যাতে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়।

অন্যদিকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়েও সংসদে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ফরিদপুর বিভাগে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে ঢাকা বিভাগের অধীনে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)।

এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩,৮২৫.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব যন্ত্র কেনা হয় এবং প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে নির্বাচন কমিশন থেকে। কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতের জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এসব মেশিন বিভিন্ন গুদামে, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে দাখিল করা হলেও মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনও বাকি রয়েছে। পাশাপাশি অডিট বিভাগ কিছু আপত্তি উত্থাপন করেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নির্বাচনী সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন—সবকিছুই একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি কার্ড নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সরকারের বিবেচনায় দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

Update Time : ০৪:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক ধাপে নয়, বরং ধাপে ধাপে আয়োজন করা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়কে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  নিজ জেলাতে রাশেদ প্রধানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া না হলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে নিচ্ছে যাতে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়।

অন্যদিকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়েও সংসদে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ফরিদপুর বিভাগে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমানে ঢাকা বিভাগের অধীনে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)।

আরও পড়ুন  বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩,৮২৫.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব যন্ত্র কেনা হয় এবং প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে নির্বাচন কমিশন থেকে। কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতের জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এসব মেশিন বিভিন্ন গুদামে, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।

আরও পড়ুন  সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হচ্ছেন ডা. মাহমুদা মিতু

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে দাখিল করা হলেও মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনও বাকি রয়েছে। পাশাপাশি অডিট বিভাগ কিছু আপত্তি উত্থাপন করেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে। এসব বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নির্বাচনী সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন—সবকিছুই একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।