ঈদে শহীদ পরিবারের পাশে সাদিক কায়েম—পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে এমন একটি উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন পরিবারের কাছে উপহার পৌঁছে দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের ঈদই তাদের ঈদ। যেসব তরুণ জীবন দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম জানান, ইতোমধ্যে তিনি বিশের অধিক শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিটি পরিবারের কাছে ঈদের উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ উদ্যোগকে শহীদ পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, যেসব প্রাণের আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানুষ একটি স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পেয়েছে, তাদের অবদান কখনও ভোলার নয়। তাই ঈদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে সাদিক কায়েম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকেও ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সংগঠনটির পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবারের জন্য একটি করে খাসির ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি শহীদ পরিবারের জন্য ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা শহীদ পরিবারের সদস্যদের ঈদ উদযাপনে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ঈদুল আজহা আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষার আলোকে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া এমন পদক্ষেপ সমাজে সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তাদের নানা অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথাও শোনেন সাদিক কায়েম। তিনি পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। অনেক পরিবারের সদস্য এ সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলেও জানা গেছে।
নিজের বার্তার শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সবার কোরবানি কবুল হওয়ার দোয়া করেন। পাশাপাশি শহীদদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার আলোকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ রাখতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় জীবনে আত্মত্যাগকারীদের পরিবারকে সম্মান ও সহায়তা প্রদান সামাজিক সংহতি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের সময়ে এমন উদ্যোগ পরিবারগুলোর প্রতি সমাজের দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঈদুল আজহার দিনে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং উপহার পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ মানবিক মূল্যবোধের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উচিত শহীদ পরিবারসহ অসহায় ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কারণ উৎসবের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যায়।সব মিলিয়ে ঈদে শহীদ পরিবারের পাশে সাদিক কায়েমের এই উদ্যোগ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং কৃতজ্ঞতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

























