এক-এগারোর মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ওই সময় সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর।
রোববার (১০ মে) ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে তদন্তে উঠে আসছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এক-এগারোর সময়কার সরকারে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও আরও কয়েকজনকে ‘ডিফেক্টো গভর্নমেন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তাদের হাতেই তখনকার সরকারের মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলে গত ৭ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
পরবর্তীতে তাকে এক দিনের জন্য সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। প্রয়োজনে আরও দুই দিন তাকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর সময়ের নানা ঘটনা ছাড়াও সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তদন্তে আসা সব তথ্য একত্রিত করে পূর্ণাঙ্গ অভিযোগ প্রস্তুত করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এক-এগারোর মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে এই তদন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।





















