ট্রাক মোটরসাইকেল সংঘর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন রওনক হাসান ওরফে শিশির (১৮) নামে এক তরুণ। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার সঙ্গে থাকা মো. তাজবি ইসলাম (১৯)। শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার বুলন্দপুর এলাকায় মঞ্জুর অটোরাইস মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
নিহত শিশির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিমতলা ফকিরপাড়া (কদমতলা) এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে। আহত তাজবি ইসলাম শহরের নিউ ইসলামপুর ভেলুর মোড় এলাকার তৌহিদুল হকের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি আমনুরা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ১০ চাকার ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শিশিরের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তাজবি ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
ট্রাক মোটরসাইকেল সংঘর্ষের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর জনতার সহায়তায় ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রাকটির গতি, চালকের অসাবধানতা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমনুরা সড়কের এই অংশে প্রায়ই দ্রুতগতির ভারী যানবাহন চলাচল করে। পর্যাপ্ত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সড়কবাতি এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড না থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তারা এই এলাকায় স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, ট্রাফিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




























