বিশ্বকাপ হাফটাইম শো এবার ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপার বোলে হাফটাইম শো বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেও এবার প্রথমবারের মতো সেই অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরাও। স্পেন ও আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালের পাশাপাশি এই বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানও এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়।
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ম্যাচের বিরতিতে প্রায় ১১ মিনিটের একটি বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে। তবে বিশাল মঞ্চ স্থাপন ও সরিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে বিরতির সময় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফিফা মনে করছে, এই আয়োজন বিশ্বকাপকে আরও বৈশ্বিক বিনোদনের মঞ্চে পরিণত করবে।
এবারের বিশ্বকাপ হাফটাইম শো-তে একসঙ্গে পারফর্ম করবেন বিশ্বের জনপ্রিয় সংগীত তারকারা। তালিকায় রয়েছেন জাস্টিন বিবার, শাকিরা, ম্যাডোনা, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস, আফ্রোবিট শিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল এবং পিএস২২ কোরাস। এছাড়া ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন পুরো অনুষ্ঠানের সৃজনশীল তত্ত্বাবধান করছেন। কোল্ডপ্লেও বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবে।
এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য শুধু বিনোদন নয়, বরং বৈশ্বিক সামাজিক উদ্যোগেও অবদান রাখা। ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা ও মানবিক কার্যক্রমের জন্য সচেতনতা বাড়ানো হবে। বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা তহবিল গঠনের উদ্যোগও এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কানাডিয়ান তারকা জাস্টিন বিবার। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ তার জন্য গর্বের। একই সঙ্গে ফুটবল ও সংগীতকে একত্রে উদযাপন করার এই উদ্যোগকে তিনি বিশেষ সম্মান হিসেবে দেখছেন। শাকিরার মতো বিশ্বকাপের পরিচিত মুখও আবারও মঞ্চে ফিরছেন, যা ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ হাফটাইম শো নতুন প্রজন্মের দর্শকদের আরও বেশি আকৃষ্ট করবে। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতি খেলোয়াড়দের ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। তারপরও বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক এই নতুন আয়োজন উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ হিসেবেই নয়, ফুটবল ও সংগীতের এক ঐতিহাসিক মিলনমেলা হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

























