স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে করে অনেকেই এখন সয়াবিন তেলের পরিবর্তে সরিষার তেল ব্যবহার করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষার তেল সম্পূর্ণ নিরাপদ বা ক্ষতিকর—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বিজ্ঞান দিতে পারেনি। তাই এটি পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ পরিবারে রান্নার জন্য সয়াবিন তেলই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। যদিও সূর্যমুখী, ক্যানোলা, রাইস ব্র্যান কিংবা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর হিসেবে পরিচিত, তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেকের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে সরিষার তেল সহজলভ্য এবং এর স্বাদও অনেকের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
সরিষার তেলে রান্না করা খাবারের স্বাদ আলাদা মাত্রা যোগ করে। আলুভর্তা, ভর্তা জাতীয় খাবার কিংবা বিকেলের মুড়িমাখা—সবকিছুতেই সরিষার তেলের ঝাঁজ ও সুগন্ধ খাবারের রুচি বাড়িয়ে দেয়। বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে সরিষার তেলের জনপ্রিয়তা বহু পুরোনো।
তবে স্বাদের পাশাপাশি এই তেলের স্বাস্থ্যগত দিক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খানের মতে, সরিষার তেল নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে এবং এ বিষয়ে আরও শক্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন।
সরিষার তেল নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হলো এতে থাকা ইরুসিক অ্যাসিড। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ইরুসিক অ্যাসিড হৃদ্পিণ্ডের কোষে চর্বি জমার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের ক্ষতির সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এ কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরিষার তেল ব্যবহারে ভিন্ন ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) রান্নার জন্য সরিষার তেলের অনুমোদন দেয় না। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ইরুসিক অ্যাসিডের নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণ করে ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে আবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সরিষার তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অঞ্চলে সরিষার তেল খাওয়ার কারণে ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রতিদিন একমাত্র রান্নার তেল হিসেবে সরিষার তেলের ওপর নির্ভর না করে পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ করে শিশুদের প্রতিদিন সরিষার তেলে রান্না করা খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যায়।
এ ছাড়া বাজার থেকে কেনা সরিষার তেল অবশ্যই খাঁটি ও ভেজালমুক্ত হওয়া জরুরি। ভেজাল তেল শরীরের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্বাস্থ্যকর তেল হলেও প্রতিদিন মোট তেল গ্রহণের পরিমাণ চার থেকে পাঁচ টেবিল চামচের বেশি না রাখাই ভালো।




























