ঘর ঝকঝকে ও স্বাস্থ্যকর রাখতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়—এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। তবে ব্রিটিশদের অভ্যাস বলছে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের ছোট ছোট পরিচ্ছন্নতার কাজই দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের পরিষ্কারের ঝামেলা কমিয়ে দিতে পারে। বিছানা গুছানো থেকে শুরু করে রান্নাঘরের কাউন্টার মুছে রাখা, ফোন জীবাণুমুক্ত করা কিংবা ফ্রিজের ভেতর নিয়মিত দেখে নেওয়ার মতো সহজ কিছু অভ্যাসই তাঁদের ঘরকে সবসময় পরিপাটি রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প সময় ব্যয় করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুললে ঘরে ধুলো, জীবাণু ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমে থাকার সুযোগ কমে যায়। ফলে সপ্তাহান্তে দীর্ঘ সময় ধরে ডিপ ক্লিনিং করার প্রয়োজনও অনেকটাই কমে আসে।
যেভাবে প্রতিদিন ঘর পরিচ্ছন্ন রাখেন ব্রিটিশরা
● বিছানা গোছাতে তাড়াহুড়া করেন না
ঘুম থেকে উঠেই বিছানা গুছিয়ে ফেলেন না তাঁরা। কিছু সময় বিছানার চাদর তুলে রেখে বাতাস চলাচলের সুযোগ দেন। একই সঙ্গে জানালা খুলে ঘরে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস ঢুকতে দেন। এরপর বালিশ ঝেড়ে সুন্দরভাবে বিছানা গুছিয়ে নেন।
● বাথরুমের সিঙ্ক সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলেন
হাত ধোয়া, দাঁত ব্রাশ করা কিংবা মেকআপের পর সিঙ্ক ও কাউন্টার ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলেন। এতে পানির দাগ, ময়লা ও জীবাণু জমার সুযোগ কমে।
● ফোন ও ল্যাপটপ নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করেন
প্রতিদিন বাইরে যাতায়াতের কারণে ফোন, ল্যাপটপ ও ব্যাগে প্রচুর জীবাণু জমতে পারে। তাই অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওয়াইপস দিয়ে এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করেন। অনেকেই দরজার বাইরে থেকেই এসব জিনিস জীবাণুমুক্ত করে ঘরে প্রবেশ করেন।
● প্রতিদিন কয়েক মিনিট গুছিয়ে রাখেন
দিন শেষে কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করে তাঁরা—
- জুতা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখেন।
- ব্যাগ খালি করেন।
- অপ্রয়োজনীয় কাগজ ফেলে দেন।
- থালাবাসন ডিশওয়াশারে রাখেন।
- টেবিল ও কাউন্টার গুছিয়ে রাখেন।
এতে অগোছালো পরিবেশ তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না।
● রান্নাঘরের কাউন্টার শুকনো রাখেন
রান্নার সময়ই ছিটে যাওয়া খাবার বা তেল মুছে ফেলেন। রাতের খাবারের পর অল-পারপাস ক্লিনার ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পুরো কাউন্টার আবার মুছে নেন। এতে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি কমে।
● রান্নাঘরের সিঙ্ক প্রতিদিন পরিষ্কার করেন
থালাবাসন ধোয়া শেষ হলে সিঙ্ক ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করেন। নির্দিষ্ট স্পঞ্জ ও লিকুইড ক্লিনার ব্যবহার করে প্রতিদিন সিঙ্ক ঘষে পরিষ্কার করার অভ্যাস তাঁদের রয়েছে।
● বেশি ব্যবহৃত জায়গায় আগে ভ্যাকুয়াম করেন
প্রতিদিন পুরো ঘর পরিষ্কার না করলেও রান্নাঘর, প্রবেশপথ ও চলাচলের জায়গাগুলোতে কয়েক মিনিট ভ্যাকুয়াম চালান। এরপর সময় থাকলে বসার ঘর ও শোবার ঘর পরিষ্কার করেন।
● ফ্রিজ নিয়মিত পরীক্ষা করেন
প্রতিদিন একবার ফ্রিজ খুলে মেয়াদোত্তীর্ণ বা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার আছে কি না দেখে নেন। কোনো তরল পড়ে থাকলে বা তাক নোংরা হলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলেন। এতে দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
● খাবার টেবিল সবসময় পরিষ্কার রাখেন
খাওয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডাইনিং টেবিল ও কফি টেবিল মুছে ফেলেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের এই অভ্যাস টেবিলে দাগ, ধুলো ও জীবাণু জমতে দেয় না।
কেন এই অভ্যাসগুলো কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প অল্প করে পরিষ্কার করলে—
- ঘরে ধুলো ও ময়লা জমে না।
- জীবাণুর বিস্তার কমে।
- দুর্গন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
- বড় ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন কম হয়।
- ঘর সবসময় পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক থাকে।
- সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হয়।
ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন
পরিচ্ছন্ন ঘর শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং পরিবারের সবার স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সাহায্য করে। ব্রিটিশদের মতো প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ব্যয় করে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে ঘর সবসময় ঝকঝকে রাখা সম্ভব। সপ্তাহজুড়ে নিয়মিত ছোট ছোট কাজ করলে ছুটির দিনজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঝামেলায় পড়তে হয় না, বরং পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগও বাড়ে।




























