স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চীনা নাগরিক সং হানজাও এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কলেজছাত্রী আয়েশা সুলতানার পরিচয় হয় একটি চীনা সামাজিক যোগাযোগভিত্তিক ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। পরিচয়ের পর নিয়মিত ভিডিও কল ও অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাসের মধ্যেই দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সং হানজাও বাংলাদেশে আসার পর স্থানীয় আলেমদের উপস্থিতিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ হান। এরপর গত ১৪ জুন এফিডেভিট সম্পন্ন করে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় দুই পরিবারের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি নাগরিককে ঘিরে এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয় এবং নবদম্পতিকে একনজর দেখতে অনেক মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন। স্থানীয়রা জানান, ভিন্ন দেশের দুই মানুষের এমন সম্পর্ক ও বিয়ে এলাকায় বিরল ঘটনা হওয়ায় এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, সং হানজাও বর্তমানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে বাংলাদেশে বৈধভাবে অবস্থান করছেন। ভবিষ্যতে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে চীনে বসবাস করবেন নাকি বাংলাদেশেই থাকবেন, সে বিষয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা চলছে। তবে আপাতত কিছুদিন স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
আয়েশা সুলতানা জানান, ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই তাদের সম্পর্ক এগিয়েছে। পরিবারের সম্মতিতেই তারা নতুন জীবন শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে সুখে থাকার আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সং হানজাও জানান, বাংলাদেশে এসে মানুষের আন্তরিকতা ও অতিথিপরায়ণতায় তিনি মুগ্ধ। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত তিনি নিজের ইচ্ছাতেই নিয়েছেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, খাবার ও মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও তিনি জানান।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করতে হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলামী রীতিতে বিয়ে করলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।






















