ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রকাশ হলো কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটি, সভাপতি নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান Logo বিষমুক্ত কৃষির ৫ উদ্যোগ, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে নতুন দৃষ্টান্ত Logo এয়ারপ্লেন মোডের ৭ কার্যকর ব্যবহার, জানলে অবাক হবেন Logo কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ Logo বিমানবন্দরে ৯৭ লাখ টাকার বিদেশি পণ্য জব্দ Logo চিঠির অমলিন স্মৃতি কেন আজও মানুষের মনে বেঁচে আছে Logo সরকারের ছয় মাসে তিন বড় ঝুঁকি, সামনে বাড়ছে শঙ্কা Logo শিক্ষানবিশে নতুন সুযোগ, আয় ও দক্ষতা বাড়বে ৬ মাসেই Logo আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন সুবিধা, চ্যাট হবে আরও আকর্ষণীয় Logo প্রাথমিক বৃত্তির নতুন হার নির্ধারণ, কত টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা?

সৌদি ইস্যুতে ইরানকে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের একটি মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের-সতর্কবার্তায় সৌদিতে হামলা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে। পাকিস্তান এবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর কোনো হামলা হলে সেটিকে তারা নিজেদের ওপর হামলার সমান হিসেবে বিবেচনা করবে। এমন বার্তা ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে পাকিস্তানের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা তাদের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌদির বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য ‘রেড লাইন’। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসলামাবাদ পরিস্থিতিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।

গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণেও এই অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসন হলে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিই বর্তমান সংকটে পাকিস্তানের কঠোর অবস্থানের অন্যতম কারণ।

এদিকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি সৌদি অঞ্চলে পাকিস্তানের সেনাসদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নতুন করে হামলা হলে তাদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি লোহিত সাগরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে চাইছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইসলামাবাদকে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বিশেষ করে হুতি গোষ্ঠী যদি সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়ায়, তাহলে পাকিস্তানের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এখন শুধু আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াতেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক নৌপথ এবং নিরাপত্তা—সবকিছু বিবেচনায় রেখে পাকিস্তান এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকাশ হলো কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটি, সভাপতি নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান

সৌদি ইস্যুতে ইরানকে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান

Update Time : ১২:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের-সতর্কবার্তায় সৌদিতে হামলা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে। পাকিস্তান এবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর কোনো হামলা হলে সেটিকে তারা নিজেদের ওপর হামলার সমান হিসেবে বিবেচনা করবে। এমন বার্তা ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে পাকিস্তানের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা তাদের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌদির বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য ‘রেড লাইন’। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসলামাবাদ পরিস্থিতিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশসহ ১০ দেশে দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষুধার্ত মানুষের বাস , ২০২৬ হবে ‘আরও ভয়াবহ’

গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণেও এই অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসন হলে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিই বর্তমান সংকটে পাকিস্তানের কঠোর অবস্থানের অন্যতম কারণ।

এদিকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি সৌদি অঞ্চলে পাকিস্তানের সেনাসদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নতুন করে হামলা হলে তাদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি লোহিত সাগরে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে।

আরও পড়ুন  যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান ও লেবাননের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল বেইজিং

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে চাইছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইসলামাবাদকে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বিশেষ করে হুতি গোষ্ঠী যদি সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়ায়, তাহলে পাকিস্তানের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  শত্রুপক্ষকে নতুন ধাক্কা দিতে প্রস্তুত ইরানের নৌবাহিনী: খামেনি পরিবারের বার্তা

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এখন শুধু আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াতেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক নৌপথ এবং নিরাপত্তা—সবকিছু বিবেচনায় রেখে পাকিস্তান এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।