ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক বৃত্তির নতুন হার নির্ধারণ, কত টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা?

বৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। ছবি: সংগৃহীত।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন হারে বৃত্তির অর্থ নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা ২২৫ টাকা করে পাবেন। পাশাপাশি দুই ধরনের বৃত্তির শিক্ষার্থীরাই বছরে একবার অতিরিক্ত ২২৫ টাকা পাবেন। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সাল থেকে এই সুবিধা ভোগ করবেন। নতুন নিয়মে আগামী তিন বছর বৃত্তি কার্যকর থাকবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২৫ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে বৃত্তির নতুন হার ও কার্যকালের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী তিন বছর ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির অর্থ প্রদান করা হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফলের ভিত্তিতে যারা বৃত্তি পেয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নতুন হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার কাঠামো নতুনভাবে নির্ধারিত হলো।

নতুন হারে বৃত্তি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কিছু নিয়মও মেনে চলতে হবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৃত্তিধারীর ভালো আচরণ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং পড়াশোনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি বিবেচনা করেই বৃত্তির অর্থ দেওয়া হবে। ফলে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি পাওয়াই যথেষ্ট নয়, পরবর্তী সময়েও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃত্তির অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। সরকারি অথবা স্বীকৃত বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তারা বিনা বেতনে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করতে পারবে। অর্থাৎ বৃত্তির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও কিছুটা সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা। এ কারণে প্রাথমিক বৃত্তি শুধু মাসিক অর্থ সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পর্যায়ের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে।

বৃত্তির টাকা বিতরণের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। সরকারের ব্যক্তি বা জি টু পি পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাসম্পন্ন তফসিলভুক্ত ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। পাশাপাশি বৃত্তির জন্য বরাদ্দ অর্থের বিল সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের শেষ দিন অর্থাৎ প্রতিবছরের ৩০ জুনের মধ্যে উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। এতে বৃত্তির অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, প্রকাশিত বৃত্তির ফলাফল বা তালিকায় কোনো ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধন, বাতিল কিংবা পুনর্বণ্টনের ক্ষমতা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ সালের শুরু থেকে তিন বছর নির্ধারিত হারে অর্থ পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা। ফলে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ উভয় শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনায় নিয়মিত থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক বৃত্তির নতুন হার নির্ধারণ, কত টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা?

Update Time : ১১:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন হারে বৃত্তির অর্থ নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা ২২৫ টাকা করে পাবেন। পাশাপাশি দুই ধরনের বৃত্তির শিক্ষার্থীরাই বছরে একবার অতিরিক্ত ২২৫ টাকা পাবেন। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সাল থেকে এই সুবিধা ভোগ করবেন। নতুন নিয়মে আগামী তিন বছর বৃত্তি কার্যকর থাকবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২৫ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে বৃত্তির নতুন হার ও কার্যকালের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী তিন বছর ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির অর্থ প্রদান করা হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফলের ভিত্তিতে যারা বৃত্তি পেয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নতুন হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার কাঠামো নতুনভাবে নির্ধারিত হলো।

আরও পড়ুন  প্রিপেইড মিটার চার্জ বাতিল ২০২৬: গ্রাহকদের বড় স্বস্তির ঘোষণা

নতুন হারে বৃত্তি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কিছু নিয়মও মেনে চলতে হবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৃত্তিধারীর ভালো আচরণ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং পড়াশোনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি বিবেচনা করেই বৃত্তির অর্থ দেওয়া হবে। ফলে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি পাওয়াই যথেষ্ট নয়, পরবর্তী সময়েও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃত্তির অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। সরকারি অথবা স্বীকৃত বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তারা বিনা বেতনে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করতে পারবে। অর্থাৎ বৃত্তির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও কিছুটা সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা। এ কারণে প্রাথমিক বৃত্তি শুধু মাসিক অর্থ সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পর্যায়ের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে।

আরও পড়ুন  প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তন, ২–৩ বছরেই নতুন পরিকল্পনা

বৃত্তির টাকা বিতরণের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। সরকারের ব্যক্তি বা জি টু পি পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাসম্পন্ন তফসিলভুক্ত ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। পাশাপাশি বৃত্তির জন্য বরাদ্দ অর্থের বিল সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের শেষ দিন অর্থাৎ প্রতিবছরের ৩০ জুনের মধ্যে উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। এতে বৃত্তির অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সরকার বন্যার্তদের পাশে, পুনর্বাসনের আশ্বাস ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, প্রকাশিত বৃত্তির ফলাফল বা তালিকায় কোনো ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধন, বাতিল কিংবা পুনর্বণ্টনের ক্ষমতা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ সালের শুরু থেকে তিন বছর নির্ধারিত হারে অর্থ পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা। ফলে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ উভয় শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনায় নিয়মিত থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।