ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পূর্ণিমার জন্মদিন: দুর্দান্ত যাত্রায় নতুন বছরে পা রাখলেন নায়িকা Logo ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি ধানমন্ডি–মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ীদের Logo সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ‘গুন্ডা দমন আইন’, কী বললেন শুভেন্দু? Logo আমির খান বিয়ে বিতর্ক: তুমুল আলোচনায় নতুন বিক্ষোভ Logo হিলি স্থলবন্দর আমদানি বাণিজ্যে ভাটা, রাজস্ব আদায় কমেছে Logo হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বাড়ছেই দেশে Logo আর্থিক চাপে সরকারের নজর ‘পান্ডা বন্ড’-এ, বিকল্প অর্থায়নে নতুন পরিকল্পনা Logo সরকার বন্যার্তদের পাশে, পুনর্বাসনের আশ্বাস ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর Logo প্রশ্ন কমন না পড়ায় ভাঙচুর, এইচএসসি কেন্দ্রে উত্তেজনা Logo শাহরুখ খানের সম্পত্তি: চমকপ্রদ বিনিয়োগে আরও বড় হলো কিং খানের সাম্রাজ্য

সরকার বন্যার্তদের পাশে, পুনর্বাসনের আশ্বাস ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর

বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সর্বাত্মকভাবে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে দুর্গত এলাকায় খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে খাগড়াছড়ির বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিতভাবে বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং তার নির্দেশনাতেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের কষ্ট কমাতে প্রশাসনের সব পর্যায়কে দ্রুত কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যার কারণে যেসব পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে কিংবা যাদের কৃষিজমি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের পর সরকারি সহায়তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এম ইকবাল হোসেইন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবার, চাল, ডাল, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকার নয়, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন একযোগে কাজ করছে। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণেই দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় পারস্পরিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং স্থানীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। যেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বন্যা শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি এবং বসতঘর পুনর্গঠনের জন্যও বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে।

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মোরতোজা আলী খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা। তারা দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি সহায়তা বিতরণে অংশ নেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের যেসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনও বিরাজমান রয়েছে, সেসব এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ত্রাণ, নগদ সহায়তা এবং উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, কোনো দুর্গত পরিবার যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্ণিমার জন্মদিন: দুর্দান্ত যাত্রায় নতুন বছরে পা রাখলেন নায়িকা

সরকার বন্যার্তদের পাশে, পুনর্বাসনের আশ্বাস ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর

Update Time : ০৯:৪৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সর্বাত্মকভাবে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে দুর্গত এলাকায় খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে খাগড়াছড়ির বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিতভাবে বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং তার নির্দেশনাতেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের কষ্ট কমাতে প্রশাসনের সব পর্যায়কে দ্রুত কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করল ইসি, আটকে আছেন মনিরাও!

তিনি আরও জানান, বন্যার কারণে যেসব পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে কিংবা যাদের কৃষিজমি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের পর সরকারি সহায়তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এম ইকবাল হোসেইন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবার, চাল, ডাল, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকার নয়, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন একযোগে কাজ করছে। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণেই দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন  হারুন অর রশীদ মারা গেছেন: বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচবারের এমপি আর নেই

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় পারস্পরিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং স্থানীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। যেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বন্যা শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি এবং বসতঘর পুনর্গঠনের জন্যও বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন  এলপিজি কার্ড নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মোরতোজা আলী খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতারা। তারা দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি সহায়তা বিতরণে অংশ নেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের যেসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনও বিরাজমান রয়েছে, সেসব এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ত্রাণ, নগদ সহায়তা এবং উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, কোনো দুর্গত পরিবার যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।