ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ‘আমি একা নই, অনেক নারী ভুক্তভোগী’, মুরাদ হাসান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মাহি Logo পূর্ণিমার জন্মদিন: দুর্দান্ত যাত্রায় নতুন বছরে পা রাখলেন নায়িকা Logo ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি ধানমন্ডি–মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ীদের Logo সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ‘গুন্ডা দমন আইন’, কী বললেন শুভেন্দু? Logo আমির খান বিয়ে বিতর্ক: তুমুল আলোচনায় নতুন বিক্ষোভ Logo হিলি স্থলবন্দর আমদানি বাণিজ্যে ভাটা, রাজস্ব আদায় কমেছে Logo হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বাড়ছেই দেশে Logo আর্থিক চাপে সরকারের নজর ‘পান্ডা বন্ড’-এ, বিকল্প অর্থায়নে নতুন পরিকল্পনা Logo সরকার বন্যার্তদের পাশে, পুনর্বাসনের আশ্বাস ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর Logo প্রশ্ন কমন না পড়ায় ভাঙচুর, এইচএসসি কেন্দ্রে উত্তেজনা

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বাড়ছেই দেশে

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছেই। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৮৬ জনের শরীরে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলেও পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত এবং উপসর্গজনিত উভয় ধরনের মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৭০২ জনের মধ্যে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে একদিনেই মোট ৭৮৬ জন নতুন রোগী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় মোট ১৩ হাজার ৪১০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, দেশে সংক্রমণের বিস্তার এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্যেও পরিস্থিতির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৮৯ হাজার ৭৬২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা গ্রহণ।

চিকিৎসকরা জানান, হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, শরীরে লালচে র‍্যাশ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং দুর্বলতা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। চিকিৎসায় দেরি হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করতে হবে এবং কোনো শিশুর জ্বর বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণ আরও না ছড়ায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ নিশ্চিত করাও জরুরি।

দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতাই হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমি একা নই, অনেক নারী ভুক্তভোগী’, মুরাদ হাসান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মাহি

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বাড়ছেই দেশে

Update Time : ০৯:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছেই। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৮৬ জনের শরীরে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলেও পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত এবং উপসর্গজনিত উভয় ধরনের মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  দুপুরের ঘুম শিশু বিকাশে কেন জরুরি

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৭০২ জনের মধ্যে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে একদিনেই মোট ৭৮৬ জন নতুন রোগী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় মোট ১৩ হাজার ৪১০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, দেশে সংক্রমণের বিস্তার এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্যেও পরিস্থিতির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৮৯ হাজার ৭৬২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

আরও পড়ুন  ফুটবল ও উদ্ভাবনী বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বড় দুই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব এ মাসে, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা গ্রহণ।

চিকিৎসকরা জানান, হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, শরীরে লালচে র‍্যাশ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং দুর্বলতা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। চিকিৎসায় দেরি হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছে: টিকা ও ভিটামিন এ ঘাটতিতে বাড়ছে ঝুঁকি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করতে হবে এবং কোনো শিশুর জ্বর বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণ আরও না ছড়ায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ নিশ্চিত করাও জরুরি।

দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতাই হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।