গভীর ঘুমের উপায় নিয়ে অনেকেই প্রতিদিন চিন্তায় থাকেন। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীর-মনকে সতেজ রাখতে ভালো ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার নানা কারণে অনেকেরই রাতের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।
রাতে দেরি করে খাবার খাওয়া ঘুমের অন্যতম শত্রু। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত। এতে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। ভারী খাবার বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবারও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
ঘুমের জন্য ঘরের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গরম বা অস্বস্তিকর তাপমাত্রা ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে। তাই শোবার ঘর যতটা সম্ভব আরামদায়ক ও শীতল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সকালে কিছু সময় সূর্যের আলোতে থাকলে শরীরের জৈব ঘড়ি সঠিকভাবে কাজ করে এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম আসতে সাহায্য করে।
অনেকেই ঘুম না এলেও দীর্ঘসময় বিছানায় শুয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভালো অভ্যাস নয়। বরং ঘুম না এলে কিছুক্ষণ বই পড়া বা শান্ত কোনো কাজ করে পরে আবার বিছানায় ফিরে আসা যেতে পারে। এতে মস্তিষ্ক বিছানাকে বিশ্রাম ও ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত রাখতে পারে।
ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত উত্তেজনাপূর্ণ কার্যকলাপ এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসে, যা ঘুমের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করে। অনেকের ক্ষেত্রেই এই ছোট অভ্যাসটি দ্রুত ঘুমাতে সহায়তা করে।
ঘুমের সময় ঘর অন্ধকার রাখা এবং মোবাইল ফোন দূরে রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইলের নীল আলো শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই গভীর ঘুমের উপায় হিসেবে প্রযুক্তি থেকে কিছুটা দূরে থাকা এবং নিয়মিত ঘুমের রুটিন অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


























