ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আমগাছ কাটার নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাঃরাতের আধারে নবাবগঞ্জে আম বাগান ধ্বংস Logo রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ে আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না বিএনপি Logo গ্রিনল্যান্ড হাঙর: অবিশ্বাস্য ৪০০ বছরের জীবনের রহস্য জানুন Logo ফ্যাসিবাদের শিকড় বাহাত্তরের সংবিধানে, দাবি ড. দিলারা চৌধুরীর Logo ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনের নতুন দায়িত্ব: বঙ্গভবনে অফিস, স্পিকারের বাসভবনে অবস্থান Logo রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ৭ সহজ ও কার্যকর টিপস Logo সবুজ স্বর্গ নরওয়ে কেন বিদেশি বর্জ্য কিনে আনে? Logo মসুর ডালের সালাদ: প্রোটিনসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ও সহজ রেসিপি Logo স্যামসাংয়ের নজিরের পর বাড়তি বোনাস দাবি, উত্তাল দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার Logo বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষে আবারও সিঙ্গাপুর

দিনে ৮ গ্লাস পানি—এই নিয়ম কি সবার জন্য সঠিক? জানুন আসল সত্য

শরীর অনুযায়ী কতটা পানি পান করা উচিত, জেনে নিন। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করা স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, দিনে ৮ গ্লাস পানি পান করলেই শরীর ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকে। তবে বাস্তবে এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

শরীরের পানির প্রয়োজনীয়তা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। এটি নির্ভর করে বয়স, শরীরের ওজন, দৈনন্দিন কাজের মাত্রা এবং আবহাওয়ার ওপর। যেমন গরমের সময় বা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেশি পানি বের হয়ে যায়। ফলে তখন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করা প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে যারা কম চলাফেরা করেন বা ঠান্ডা পরিবেশে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই সবার জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের তৃষ্ণা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলেও এটি সব সময় নির্ভুল নির্দেশনা দেয় না। অনেক সময় শরীর হালকা ডিহাইড্রেটেড থাকলেও তৃষ্ণা তেমন বোঝা যায় না। তাই দিনের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাবার থেকেও শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি প্রবেশ করে। তরমুজ, শসা, কমলা, দুধ বা স্যুপের মতো খাবার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে। ফলে শুধু পানির গ্লাস গুনে হিসাব করাটা পুরো চিত্রটা বোঝায় না।

 শরীর অনুযায়ী পানি পানের সহজ গাইড

  • সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২–৩ লিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে
  • বেশি ঘাম হলে বা ব্যায়াম করলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে
  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে পানির চাহিদা বেশি হয়
  • অসুস্থতা বা জ্বর থাকলে শরীরের পানি দ্রুত কমে যেতে পারে

পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন কি না বুঝবেন যেভাবে

  • প্রস্রাবের রং যদি হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হয়, তাহলে বুঝবেন শরীর হাইড্রেটেড
  • গা শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি অনুভব হলে পানির ঘাটতি থাকতে পারে
  • ঠোঁট ও ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে পানি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে

 অতিরিক্ত পানি পানেও ঝুঁকি

অনেকে ভাবেন বেশি পানি মানেই বেশি উপকার। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা “ওভারহাইড্রেশন” নামে পরিচিত। এতে মাথা ব্যথা, বমি ভাব এমনকি গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 তাই নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার পেছনে না ছুটে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে পানি পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমগাছ কাটার নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাঃরাতের আধারে নবাবগঞ্জে আম বাগান ধ্বংস

দিনে ৮ গ্লাস পানি—এই নিয়ম কি সবার জন্য সঠিক? জানুন আসল সত্য

Update Time : ১০:২৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করা স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, দিনে ৮ গ্লাস পানি পান করলেই শরীর ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকে। তবে বাস্তবে এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

শরীরের পানির প্রয়োজনীয়তা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। এটি নির্ভর করে বয়স, শরীরের ওজন, দৈনন্দিন কাজের মাত্রা এবং আবহাওয়ার ওপর। যেমন গরমের সময় বা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেশি পানি বের হয়ে যায়। ফলে তখন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করা প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে যারা কম চলাফেরা করেন বা ঠান্ডা পরিবেশে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই সবার জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন  শিশু ডিহাইড্রেশন সম্পর্কে জানা জরুরি লক্ষণ ও করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের তৃষ্ণা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলেও এটি সব সময় নির্ভুল নির্দেশনা দেয় না। অনেক সময় শরীর হালকা ডিহাইড্রেটেড থাকলেও তৃষ্ণা তেমন বোঝা যায় না। তাই দিনের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাবার থেকেও শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি প্রবেশ করে। তরমুজ, শসা, কমলা, দুধ বা স্যুপের মতো খাবার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে। ফলে শুধু পানির গ্লাস গুনে হিসাব করাটা পুরো চিত্রটা বোঝায় না।

আরও পড়ুন  বেশি কফি খেলে ঘুম কমে, বাড়তে পারে হৃদস্পন্দনের ঝুঁকি

 শরীর অনুযায়ী পানি পানের সহজ গাইড

  • সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২–৩ লিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে
  • বেশি ঘাম হলে বা ব্যায়াম করলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে
  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে পানির চাহিদা বেশি হয়
  • অসুস্থতা বা জ্বর থাকলে শরীরের পানি দ্রুত কমে যেতে পারে

পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন কি না বুঝবেন যেভাবে

  • প্রস্রাবের রং যদি হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হয়, তাহলে বুঝবেন শরীর হাইড্রেটেড
  • গা শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি অনুভব হলে পানির ঘাটতি থাকতে পারে
  • ঠোঁট ও ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে পানি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে
আরও পড়ুন  পিআইসিইউ সংকট ও হাম চিকিৎসা সেবার বাস্তবতা

 অতিরিক্ত পানি পানেও ঝুঁকি

অনেকে ভাবেন বেশি পানি মানেই বেশি উপকার। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা “ওভারহাইড্রেশন” নামে পরিচিত। এতে মাথা ব্যথা, বমি ভাব এমনকি গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 তাই নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার পেছনে না ছুটে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে পানি পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।