মাঝেমধ্যে উদ্বিগ্ন বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে অনেকের ক্ষেত্রে উদ্বেগ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দিনের শেষে ক্লান্তি ও অবসর সময়ে নানা চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকায় সন্ধ্যা বা রাতে উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে। এ সময় সঠিক পানীয় বেছে নেওয়া শরীর ও মনকে কিছুটা শান্ত রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবারের পর উদ্বেগ কমাতে চা হিসেবে ক্যামোমাইল চা একটি ভালো বিকল্প।
ক্যামোমাইল চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডের মধ্যে অ্যাপিজেনিন নামের একটি উপাদান রয়েছে। এটি মস্তিষ্কের এমন কিছু অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা শিথিলতা ও শান্ত অনুভূতিতে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় ক্যামোমাইলের সঙ্গে উদ্বেগ ও অনিদ্রার কিছু উপসর্গ কমার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তবে এটি উদ্বেগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ক্যামোমাইল চায়ের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এটি স্বাভাবিকভাবেই ক্যাফেইনমুক্ত। সন্ধ্যার পর কফি, চা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে কারও কারও অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ঘুমের সমস্যা আবার উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বিকেল ও রাতের দিকে ক্যাফেইনের পরিবর্তে ক্যামোমাইলের মতো ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে।
চায়ের উপকার শুধু এর উপাদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে তৈরি হওয়া শান্ত একটি রুটিনও গুরুত্বপূর্ণ। রাতের খাবারের পর এক কাপ গরম ক্যামোমাইল চা তৈরি করে ১০ মিনিট ফোন বা অন্যান্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা মনকে ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে পারে। নিয়মিত এমন একটি রুটিন তৈরি হলে শরীরও ঘুমের সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। চাইলে চায়ের সঙ্গে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাসও যোগ করা যায়।
তবে উদ্বেগ কমাতে শুধু একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। ক্যামোমাইল চা পছন্দ না হলে ক্যাফেইনমুক্ত গরম দুধও একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, গভীর শ্বাসের অনুশীলন, পুষ্টিকর খাবার এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, ফল, বাদাম, বীজ, আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম। উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে—উদ্বেগ ঘুমে বাধা দিতে পারে, আবার ঘুমের ঘাটতি উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা, রাতে ফোন দূরে রাখা এবং দিনের শেষভাগে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। রাতের খাবারের পর এক কাপ ক্যামোমাইল চা হতে পারে সেই শান্ত রুটিনের একটি অংশ, তবে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজনীয় পেশাদার সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





























