কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে উন্নত কম্পিউটিং শক্তি দখলের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক এনভিডিয়া-সমর্থিত স্টার্টআপ ল্যাম্বডার সঙ্গে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বড় কম্পিউটিং চুক্তি করেছে। চুক্তিটির মেয়াদ ছয় বছর। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক অ্যানথ্রপিক বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এআই প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে অবস্থিত ল্যাম্বডা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই-কেন্দ্রিক ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা দিয়ে থাকে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে অ্যানথ্রপিক দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ল্যাম্বডা যে কম্পিউটিং অবকাঠামো ব্যবহার করবে, তার একটি অংশ সরবরাহ করবে ডেটা সেন্টার নির্মাতা Hut 8। প্রতিষ্ঠানটি বিটকয়েন মাইনিংয়ের পাশাপাশি ডেটা সেন্টার নির্মাণেও কাজ করে। টেক্সাসে নির্মাণাধীন তাদের একটি ডেটা সেন্টার থেকেই অ্যানথ্রপিক কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহার করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তিতে এনভিডিয়ার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। Nvidia ইতোমধ্যে অ্যানথ্রপিক ও ল্যাম্বডা—দুই প্রতিষ্ঠানেই বিনিয়োগ করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এনভিডিয়া Hut 8-এর কাছ থেকে ডেটা সেন্টারটি লিজ নেবে এবং পরে ল্যাম্বডা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে সেই অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তবে এ ব্যবস্থায় ল্যাম্বডা কত অর্থ দেবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে অ্যানথ্রপিক সাম্প্রতিক সময়ে আরও একটি বড় কম্পিউটিং চুক্তি করেছে। লন্ডনভিত্তিক ক্লাউড সেবা প্রদানকারী Nscale-এর সঙ্গে ছয় বছরের জন্য ৪৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি ডেটা সেন্টারে কম্পিউটিং সক্ষমতা পাওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছর অ্যানথ্রপিকের বিভিন্ন কম্পিউটিং চুক্তির মোট মূল্য অন্তত ১৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
এআই বাজারে অ্যানথ্রপিক বর্তমানে OpenAI-এর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে। গ্রাহক বাড়ানো, আয় বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই দুই প্রতিষ্ঠানকে বিপুল কম্পিউটিং শক্তির প্রয়োজন হচ্ছে। একই সময়ে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য উন্নত চিপ এবং ডেটা সেন্টারের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। মেমোরি ও চিপের বাড়তি খরচের কারণে Apple ইতোমধ্যে কিছু Mac ও iPad-এর দাম বাড়িয়েছে। আগামী প্রজন্মের iPhone-এর দামও বাড়তে পারে বলে বাজারে আলোচনা রয়েছে।


























