স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং আপনার দৈনন্দিন জীবনের নীরব পর্যবেক্ষকও। আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কতক্ষণ থাকছেন এসব তথ্য অনেক সময় আপনার অজান্তেই সংগ্রহ করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে না বুঝেই লোকেশন পারমিশন দিয়ে দিই, আর সেখান থেকেই শুরু হয় এই ট্র্যাকিং।
শুধু অ্যাপই নয়, স্মার্টফোনের ভেতরের কিছু সিস্টেম সার্ভিসও আপনার গতিবিধির তথ্য সংরক্ষণ করে। আইফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ‘Significant Locations’ নামের একটি ফিচার রয়েছে, যা আপনার নিয়মিত যাতায়াত, বাসা কিংবা কর্মস্থলের তথ্য পর্যন্ত মনে রাখে। ফলে ব্যবহারকারী না জানলেও তার চলাফেরার একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন তৈরি হয়ে যায়।
এই ফিচারটি বন্ধ করতে হলে সেটিংস থেকে Privacy & Security-তে গিয়ে Location Services অপশনে ঢুকতে হবে। এরপর System Services-এ গিয়ে ‘Significant Locations’ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি আগে জমে থাকা লোকেশন ডাটাও মুছে ফেলা জরুরি, না হলে পুরোনো তথ্য থেকে যাবে।
অন্যদিকে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্যও ঝুঁকি কম নয়। ‘Location History’ এবং ‘Web & App Activity’ ফিচার ব্যবহারকারীর চলাফেরার সম্পূর্ণ টাইমলাইন তৈরি করে। এই অপশনগুলো বন্ধ না করলে গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আপনার লোকেশন নিয়মিত সংরক্ষণ হতে থাকে।
এমনকি অনেক সময় ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ বন্ধ থাকলেও ফোন লোকেশন স্ক্যান করতে পারে। তাই সেটিংস থেকে Location Scanning অপশন বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এটি না করলে আপনার অজান্তেই আশপাশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে লোকেশন ট্র্যাক করা হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অ্যাপ পারমিশন। অনেক অ্যাপ ‘Allow all the time’ অপশনে লোকেশন অ্যাক্সেস নিয়ে রাখে। এগুলো পরিবর্তন করে ‘While using the app’ বা ‘Ask every time’ করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আইফোনে ‘Precise Location’ বন্ধ রাখলে অ্যাপ শুধু আনুমানিক অবস্থান জানতে পারে, যা তুলনামূলক নিরাপদ।
মনে রাখতে হবে, স্ক্রিনের ওপরের তীর চিহ্ন বা সবুজ ডট দেখালে বুঝতে হবে কোনো অ্যাপ তখন আপনার লোকেশন ব্যবহার করছে। তাই নিরাপদ থাকতে নিয়মিত অ্যাপ পারমিশন চেক করা এবং অপ্রয়োজনীয় লোকেশন অ্যাক্সেস বন্ধ রাখা এখন সময়ের দাবি।





























