ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকটাই স্পষ্ট। ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই কম এই তারকা ফুটবলারের। চোট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নন তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানান, নেইমার সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এ কারণে তাকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না ব্রাজিল দল।
ব্রাজিলের কোচ বলেন, নেইমারের লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফেরা। কিন্তু চিকিৎসক এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ফলে প্রথম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল এই সপ্তাহেই দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দেবেন নেইমার। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি প্রত্যাশিত গতিতে না হওয়ায় পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন আগামী সপ্তাহে তাকে মাঠের অনুশীলনে ফেরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সান্তোসের এই তারকা ফুটবলার গত ১৭ মে ডান পায়ে গ্রেড টু ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই তিনি মাঠের বাইরে রয়েছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে এই চোট ব্রাজিল শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি নিয়মিত জিম ও ফিটনেস সেশন সম্পন্ন করছেন। তবে এখনও বল নিয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে পুরো সপ্তাহজুড়ে নেইমারকে জিমেই কাজ করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে তার সতীর্থরা মাঠে কৌশলগত ও দলীয় অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে তাকে মাঠে দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের শুরুতেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মরক্কোর মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কোচিং স্টাফ।
তবে মাঠে না থাকলেও দলের সঙ্গে নেইমারের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আনচেলত্তি। তার মতে, একজন অভিজ্ঞ ফুটবলার হিসেবে নেইমার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বড় টুর্নামেন্টে তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য বিশেষ মূল্য বহন করে।
আনচেলত্তি বলেন, নেইমারকে দলে রাখার সিদ্ধান্ত শুধু তার ফুটবলীয় সামর্থ্যের কারণে নয়। বরং ড্রেসিংরুমে তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব কারণে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছেন।
বর্তমান ব্রাজিল দলে বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার রয়েছেন যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন। তাদের কাছে নেইমারের মতো একজন সিনিয়র তারকার উপস্থিতি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উৎস। যদিও তিনি মাঠে নামতে পারছেন না, তবুও দলের ভেতরে তার প্রভাব স্পষ্ট।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের গুরুত্ব অনেক বেশি। কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়, সে বিষয়ে তরুণরা সিনিয়রদের কাছ থেকেই শিক্ষা নেয়। নেইমারের অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের জন্য সেই দিক থেকে বিশেষ সম্পদ।
ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য অবশ্য আশার খবরও রয়েছে। প্রথম ম্যাচ মিস করলেও টুর্নামেন্টের বাকি অংশে নেইমারকে পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বরং দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচকে সামনে রেখে তাকে প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে।
গ্রুপ সি-তে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়ায়। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ হাইতি। চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে ওই ম্যাচেই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম উপস্থিতি ঘটাতে পারেন নেইমার।
৩৪ বছর বয়সী এই তারকা এখনও ব্রাজিলের অন্যতম নির্ভরতার নাম। তার সৃজনশীলতা, গোল করার ক্ষমতা এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তাই তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফেরানোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের শুরুতে নেইমারকে ছাড়া খেলতে হলেও ব্রাজিলের স্কোয়াডে তার বিকল্প হিসেবে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন। তবুও সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকবে দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন এই তারকা। কারণ বড় ম্যাচে নেইমারের উপস্থিতি এখনও ব্রাজিলের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাসের নাম।
সব মিলিয়ে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই তাকে ঝুঁকিতে না ফেলে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত রাখার কৌশল নিয়েছে ব্রাজিল। এখন সমর্থকদের অপেক্ষা, কবে আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে তাদের প্রিয় তারকাকে।























