ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতুড়িপেটা করে থানায় স্বামী, হাসপাতালে গৃহবধূর মৃত্যু

নড়াইলে হাতুড়িপেটায় গৃহবধূ নিহত, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামী

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন জসিম শেখ নামের এক ব্যক্তি। রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার করফা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ জোনাকি খানম মারা যান।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রবিবার দুপুরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জসিম শেখ ক্ষিপ্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রী জোনাকি খানমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় জোনাকি খানম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকেল ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হামলার পর অভিযুক্ত জসিম শেখ হাতে ব্যবহৃত হাতুড়ি নিয়ে সরাসরি লোহাগড়া থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি পুলিশের কাছে স্ত্রীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার বলেন, পরিবারের মাধ্যমে গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পারিবারিক সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এমন ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাতুড়িপেটা করে থানায় স্বামী, হাসপাতালে গৃহবধূর মৃত্যু

Update Time : ০৮:১০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন জসিম শেখ নামের এক ব্যক্তি। রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার করফা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ জোনাকি খানম মারা যান।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রবিবার দুপুরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জসিম শেখ ক্ষিপ্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রী জোনাকি খানমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।

আরও পড়ুন  শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, গ্রেফতার গুদাম মালিক

গুরুতর আহত অবস্থায় জোনাকি খানম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকেল ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হামলার পর অভিযুক্ত জসিম শেখ হাতে ব্যবহৃত হাতুড়ি নিয়ে সরাসরি লোহাগড়া থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি পুলিশের কাছে স্ত্রীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন  পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার বলেন, পরিবারের মাধ্যমে গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পারিবারিক সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এমন ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।