ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মোংলায় কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্রসহ নানা ভাই বাহিনীর প্রধান সহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ।

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২০

নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জন দস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেন।

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে এই ১২ জন দস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড কাজ করে যাচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোরেশন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছিল।

অভিযান চলাকালে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জন সাধারণ মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল এসব অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দস্যুরা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় ইতোমধ্যে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ বিভিন্ন ডাকাত দল কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এ সময় দস্যুদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড কেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এম-৩ গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার এবং ২টি এয়ার গান উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া তাদের জমা দেওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিলিমিটার পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মিলিমিটার তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ার গান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ার গান ম্যাগাজিন এবং ৬টি ওয়াকিটকি।

আত্মসমর্পণকারী ও আটক ডাকাত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত, সাইফুল্লাহ মোড়ল, একলাছুর রহমান, রবিউল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন গাজী ও আব্দুর রহমান শেখ। তারা সবাই খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা শাহজাহান মালী এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা আজিজুর রহমান। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ও আটককৃত বনদস্যুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

মোংলায় কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্রসহ নানা ভাই বাহিনীর প্রধান সহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ।

Update Time : ০৯:০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে এই ১২ জন দস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড কাজ করে যাচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোরেশন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন  রংপুরে চার হত্যা: আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

অভিযান চলাকালে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জন সাধারণ মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল এসব অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দস্যুরা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় ইতোমধ্যে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ বিভিন্ন ডাকাত দল কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-তুরস্ক কৌশলগত অংশীদারি, বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা

এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এ সময় দস্যুদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড কেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এম-৩ গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার এবং ২টি এয়ার গান উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া তাদের জমা দেওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিলিমিটার পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মিলিমিটার তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ার গান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ার গান ম্যাগাজিন এবং ৬টি ওয়াকিটকি।

আরও পড়ুন  ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার: বহিষ্কারের কঠোর সিদ্ধান্ত জানাল দল

আত্মসমর্পণকারী ও আটক ডাকাত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত, সাইফুল্লাহ মোড়ল, একলাছুর রহমান, রবিউল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন গাজী ও আব্দুর রহমান শেখ। তারা সবাই খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা শাহজাহান মালী এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা আজিজুর রহমান। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ও আটককৃত বনদস্যুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।