ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন জাদুঘরে। | ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার রাজধানীর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ সময়ের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অতীতের ঘটনাগুলো সংরক্ষণ করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের গণতান্ত্রিক পথচলা ও মানুষের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন। দর্শনার্থীর টিকিট সংগ্রহ করে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরে প্রবেশ করেন এবং পরিদর্শনের শুরুতেই বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

জাদুঘরের ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি ও তথ্য দেখেন। এরপর দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক শাসনামলে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে তৈরি মেমোরিয়াল এবং রেপ্লিকা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পাওয়ার পেছনে মানুষের বড় ধরনের ত্যাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনের বিভিন্ন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত প্রদর্শনী ছিল। শহীদদের লেখা চিঠি, স্মারক ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন দেখতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এসব নিদর্শন শুধু একটি সময়ের স্মৃতি নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলেও প্রতীয়মান হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত সুস্থতা এবং কল্যাণ কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তিনি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন, যেখানে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে। তাঁর আহ্বানে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথচলায় গণতন্ত্র, মানবিকতা ও বৈষম্যহীনতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি আরও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসে।

পরিদর্শন শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ এবং জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, ইতিহাস তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর তাৎপর্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান

Update Time : ১০:৪৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার রাজধানীর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ সময়ের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অতীতের ঘটনাগুলো সংরক্ষণ করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের গণতান্ত্রিক পথচলা ও মানুষের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন। দর্শনার্থীর টিকিট সংগ্রহ করে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরে প্রবেশ করেন এবং পরিদর্শনের শুরুতেই বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন  জুলাই শহীদ-আহত পরিবারের ১০ সদস্য পেলেন চাকরি

জাদুঘরের ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি ও তথ্য দেখেন। এরপর দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক শাসনামলে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে তৈরি মেমোরিয়াল এবং রেপ্লিকা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পাওয়ার পেছনে মানুষের বড় ধরনের ত্যাগ রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

আরও পড়ুন  সংসদ সচিবালয় কমিশন গঠন, চেয়ারম্যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

পরিদর্শনের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনের বিভিন্ন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত প্রদর্শনী ছিল। শহীদদের লেখা চিঠি, স্মারক ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন দেখতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এসব নিদর্শন শুধু একটি সময়ের স্মৃতি নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলেও প্রতীয়মান হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত সুস্থতা এবং কল্যাণ কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তিনি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন, যেখানে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে। তাঁর আহ্বানে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথচলায় গণতন্ত্র, মানবিকতা ও বৈষম্যহীনতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি আরও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসে।

আরও পড়ুন  সংঘাত নয়, সমঝোতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পরিদর্শন শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ এবং জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, ইতিহাস তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর তাৎপর্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।