জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। এ সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবরও নেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগপত্র পাওয়া ১০ জনের মধ্যে আটজন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং দুজন গুরুতর আহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই শহীদদের স্ত্রী। এছাড়া একজন শহীদের বোন এবং গুরুতর আহত দুজনের স্ত্রীও রয়েছেন এই তালিকায়।
নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আবদুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার এবং শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার। আরও রয়েছেন শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা এবং শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি।
এ ছাড়া শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি, শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী, গুরুতর আহত মো. আবদুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের পেছনে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল। এমন একটি দেশ গড়ে তোলাই ছিল এসব আত্মত্যাগের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের পেছনে বাংলাদেশকে আরও ভালো করার প্রত্যাশা ছিল। তাঁদের এই আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও বাস্তবতার আলোকে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। কী পাওয়া গেল, সেটির চেয়ে দেশকে কী দেওয়া সম্ভব হলো—এ বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আবদুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। চাকরির নিয়োগপত্র পাওয়া শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।




























