ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ফেনীতে শিল্পকারখানায় ডাকাতি, লুট হলো আড়াই কোটি টাকার মাল

চিত্রঃ ফেনীর শর্শদীতে শিল্পকারখানায় ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে একটি শিল্পকারখানায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত কারখানায় হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে প্রহরীকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। বুধবার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিল্পকারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে গভীর রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল ট্রাক নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে। পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ এ দলটি প্রথমেই কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করার চেষ্টা চালায়। দুর্বৃত্তরা কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে দেয়, যাতে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা পুরো কারখানায় তাণ্ডব চালায় এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি ট্রাকে তুলে নেয়। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল কেমিক্যাল মোটর, বয়লার বার্নার, দামি বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব যন্ত্রপাতির বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

ঘটনার সময় কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয় বলে জানা গেছে। ফলে তারা কোনো ধরনের বাধা দিতে পারেননি। ডাকাত দলটি পুরো ঘটনা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে ট্রাক চলাচলের শব্দ পেলেও কেউ প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে সকালে কারখানার ভেতরের অবস্থা দেখে ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশের ধারণা, ডাকাত দলটি আগে থেকেই কারখানার ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিল। কারণ তারা সরাসরি মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো লক্ষ্য করে লুট করেছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অপারেশন সম্পন্ন করেছে।

এ ঘটনায় শিল্পমালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পকারখানাকে লক্ষ্য করে অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগ ও শিল্পখাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক দল কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

ফেনীতে শিল্পকারখানায় ডাকাতি, লুট হলো আড়াই কোটি টাকার মাল

Update Time : ০৯:০৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে একটি শিল্পকারখানায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত কারখানায় হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে প্রহরীকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। বুধবার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিল্পকারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে গভীর রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল ট্রাক নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে। পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ এ দলটি প্রথমেই কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করার চেষ্টা চালায়। দুর্বৃত্তরা কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে দেয়, যাতে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা পুরো কারখানায় তাণ্ডব চালায় এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি ট্রাকে তুলে নেয়। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল কেমিক্যাল মোটর, বয়লার বার্নার, দামি বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব যন্ত্রপাতির বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

আরও পড়ুন  তৃতীয় টার্মিনাল চালুতে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে পরিকল্পনা, জানাল বেবিচক

ঘটনার সময় কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয় বলে জানা গেছে। ফলে তারা কোনো ধরনের বাধা দিতে পারেননি। ডাকাত দলটি পুরো ঘটনা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে ট্রাক চলাচলের শব্দ পেলেও কেউ প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে সকালে কারখানার ভেতরের অবস্থা দেখে ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন  মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশের ধারণা, ডাকাত দলটি আগে থেকেই কারখানার ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিল। কারণ তারা সরাসরি মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো লক্ষ্য করে লুট করেছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অপারেশন সম্পন্ন করেছে।

আরও পড়ুন  বগুড়ায় ‘অতিথি সেজে বাড়িতে ঢুকে’ অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হত্যা

এ ঘটনায় শিল্পমালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পকারখানাকে লক্ষ্য করে অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগ ও শিল্পখাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক দল কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।