ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এইচপিভি টিকার বড় ভূমিকা Logo হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বন্যার শঙ্কা Logo দাবানলের কবলে ফ্রান্স: ভয়াবহ বন আগুন, নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক অভিযান Logo বিশ্বকাপের প্যানেল থেকে বাদ পড়া রেফারির রহস্যজনক মৃত্যু Logo মিয়ানমারে সার পাচার: উখিয়ায় ১৩০ বস্তা সরকারি সার জব্দ Logo সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় ঢাবির জলাবদ্ধ মাঠে মাছ ছাড়লেন ডাকসু নেতারা Logo দুটি মেয়ে আছে, একটা কাজ দিন, বাবার সেই আকুতি আজও ভুলতে পারেন না ভাগ্যশ্রী Logo ইরানি বিপ্লবী গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করছে যুক্তরাজ্য! Logo তিস্তার পানি বাড়ছেই, বন্যার ঝুঁকিতে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল Logo মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশ: ৯২% চিকিৎসা নেন না

জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এইচপিভি টিকার বড় ভূমিকা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৪

কম বয়সে এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে

যুক্তরাজ্যের একটি নতুন গবেষণায় জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) টিকার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সে টিকা নেওয়া মেয়েদের মধ্যে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যুর হার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক বয়সে টিকা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এই ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত জাতীয় এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবই এই ফলাফলের অন্যতম কারণ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

জরায়ুমুখ ক্যানসার বিশ্বের নারীদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত ক্যানসার। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের প্রায় সব ক্ষেত্রেই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভির সংক্রমণ জড়িত। বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এইচপিভি ধরন দীর্ঘ সময় শরীরে থাকলে জরায়ুমুখের কোষে পরিবর্তন শুরু হয়, যা একসময় ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। তবে এইচপিভি সংক্রমণ মানেই যে ক্যানসার হবে, বিষয়টি এমন নয়। অনেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই ভাইরাসটি দূর করে দিতে পারে। কিন্তু সংক্রমণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণেই চিকিৎসকেরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি বলে মনে করেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের যৌনজীবন শুরু হওয়ার আগেই এইচপিভি টিকা দেওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এই বয়সে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা টিকার প্রতি ভালো সাড়া দেয়। ফলে ভবিষ্যতে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। এই টিকার উপকারিতা শুধু জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মুখ, গলা ও ঘাড়ের কিছু ক্যানসার এবং জেনিটাল ওয়ার্টসের ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করে। তাই বিশ্বের অনেক দেশ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এইচপিভি টিকাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বাংলাদেশেও সরকার কিশোরীদের জন্য এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। নির্ধারিত বয়সী শিক্ষার্থীদের স্কুলভিত্তিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কর্মসূচির বিস্তৃতি বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দেশে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) লক্ষ্য হলো, ১৫ বছর বয়সের আগেই অধিকাংশ কিশোরীকে এইচপিভি টিকার আওতায় আনা। একই সঙ্গে নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারকে জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে সংস্থাটি মনে করে।

এইচপিভি টিকা নিয়ে অনেক অভিভাবকের মধ্যেই এখনো কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি নিরাপদ ও পরীক্ষিত টিকা। সাধারণত টিকা নেওয়ার পর ইনজেকশনের স্থানে সামান্য ব্যথা, লালচে ভাব, হালকা জ্বর বা শরীরব্যথার মতো অস্থায়ী উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা খুব দ্রুত সেরে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নির্ধারিত বয়সে এইচপিভি টিকা গ্রহণের পাশাপাশি নারীদের নিয়মিত জরায়ুমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিংও করানো উচিত। সময়মতো টিকাদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই তিনটি পদক্ষেপ একসঙ্গে অনুসরণ করা গেলে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এইচপিভি টিকার বড় ভূমিকা

জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এইচপিভি টিকার বড় ভূমিকা

Update Time : ০৪:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের একটি নতুন গবেষণায় জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) টিকার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সে টিকা নেওয়া মেয়েদের মধ্যে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যুর হার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক বয়সে টিকা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এই ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত জাতীয় এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবই এই ফলাফলের অন্যতম কারণ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

জরায়ুমুখ ক্যানসার বিশ্বের নারীদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত ক্যানসার। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের প্রায় সব ক্ষেত্রেই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভির সংক্রমণ জড়িত। বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এইচপিভি ধরন দীর্ঘ সময় শরীরে থাকলে জরায়ুমুখের কোষে পরিবর্তন শুরু হয়, যা একসময় ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। তবে এইচপিভি সংক্রমণ মানেই যে ক্যানসার হবে, বিষয়টি এমন নয়। অনেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই ভাইরাসটি দূর করে দিতে পারে। কিন্তু সংক্রমণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণেই চিকিৎসকেরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি বলে মনে করেন।

আরও পড়ুন  ক্যানসারে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে সোয়া লাখ মানুষ, বাড়ছে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের যৌনজীবন শুরু হওয়ার আগেই এইচপিভি টিকা দেওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এই বয়সে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা টিকার প্রতি ভালো সাড়া দেয়। ফলে ভবিষ্যতে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। এই টিকার উপকারিতা শুধু জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মুখ, গলা ও ঘাড়ের কিছু ক্যানসার এবং জেনিটাল ওয়ার্টসের ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করে। তাই বিশ্বের অনেক দেশ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এইচপিভি টিকাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আরও পড়ুন  নবজাতক মৃত্যু সহায়তা: আদ্-দ্বীনের নতুন সিদ্ধান্ত কী?

বাংলাদেশেও সরকার কিশোরীদের জন্য এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। নির্ধারিত বয়সী শিক্ষার্থীদের স্কুলভিত্তিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কর্মসূচির বিস্তৃতি বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দেশে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) লক্ষ্য হলো, ১৫ বছর বয়সের আগেই অধিকাংশ কিশোরীকে এইচপিভি টিকার আওতায় আনা। একই সঙ্গে নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারকে জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে সংস্থাটি মনে করে।

আরও পড়ুন  এডিবির বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, বিস্তৃত হচ্ছে নারীদের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি

এইচপিভি টিকা নিয়ে অনেক অভিভাবকের মধ্যেই এখনো কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি নিরাপদ ও পরীক্ষিত টিকা। সাধারণত টিকা নেওয়ার পর ইনজেকশনের স্থানে সামান্য ব্যথা, লালচে ভাব, হালকা জ্বর বা শরীরব্যথার মতো অস্থায়ী উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা খুব দ্রুত সেরে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নির্ধারিত বয়সে এইচপিভি টিকা গ্রহণের পাশাপাশি নারীদের নিয়মিত জরায়ুমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিংও করানো উচিত। সময়মতো টিকাদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই তিনটি পদক্ষেপ একসঙ্গে অনুসরণ করা গেলে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।