ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই চরম সিদ্ধান্তের ফলে তেহরানের সঙ্গে লন্ডনের দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বছরের পর বছর চলা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভেদ শেষে গত সোমবার এই প্রভাবশালী বাহিনীকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের মাটিতে সাংবাদিক হত্যাচেষ্টা ও ব্রিটিশ লক্ষ্যবস্তুতে সাইবার হামলার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু হুমকির প্রেক্ষাপটে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কনজারভেটিভ পার্টির আগের নরম অবস্থানকে পুরোপুরি বদলে দিল বর্তমান নতুন ব্রিটিশ সরকার। নতুন এই আদেশের ফলে এখন থেকে যুক্তরাজ্যে যেকোনো উপায়ে আইআরজিসি-কে সমর্থন করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইআরজিসি-র পাশাপাশি ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কমপেনিয়নস অব দ্য রাইট’ এবং রাশিয়ার গোয়েন্দা শাখা ‘রাশিয়ান ফেডারেশন ভলান্টিয়ার কর্পস’কেও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমস্ত প্রমাণ সতর্কতার সাথে বিবেচনা করে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সংগঠনগুলো যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন বিদেশি শক্তি-সংশ্লিষ্ট হুমকিমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মাঝেই যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের ফলে তেহরানের সাথে ব্রিটিশ সম্পর্ক আরও তলানিতে নামবে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এর আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করতে পারে ইরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন করে এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে যাচ্ছে।



























