ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চায়ের চিনি বাদ দিয়ে গুড়-মধু খাচ্ছেন? জানুন আসল সত্য Logo বর্ষায় ত্বকের যত্নে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন Logo পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু ঘুরল রাজশাহীর প্রত্যয় Logo রায়গঞ্জে ব্যতিক্রমী ফুটবল আয়োজনে উন্মাদনায় মাতলেন যুবসমাজ Logo বিশ্বের শীর্ষ বন্দর তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৮তম Logo মন ও শরীরের যত্নে প্রতিদিন ২০ মিনিট সময় দিন প্রকৃতিকে Logo কচু খেলে গলা ধরে কেন জানুন পুষ্টিগুণ ও সতর্কতার কারণ Logo অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দিচ্ছেন রূপচর্চায় কাজে লাগা এই উপাদানগুলো Logo দামি স্কিনকেয়ার ছাড়াই সুন্দর ত্বক আর ঝলমলে চুলের সহজ উপায় Logo ভূরুঙ্গামারীতে এনসিপির ৩ মাসের আংশিক কমিটিতে আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ , সদস্য সচিব মোর্শেদুর রহমান আনিস

হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বন্যার শঙ্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫৫

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেমি ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

ভারতের উজানে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে নদীপাড়ের মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উজানে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৩০ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার, অর্থাৎ পানি ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত মাসের শেষ দিকেও তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্প সময়ের জন্য বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। যদিও এক দিনের মধ্যেই পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও পানির স্তর বাড়তে শুরু করে। সোমবার সন্ধ্যার পর তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে রাতেই বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানির উচ্চতা বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যেই চরাঞ্চলে পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় চরবাসীর যাতায়াতে নৌকা ও ভেলাই এখন একমাত্র ভরসা। পানিবন্দি মানুষ, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

এর পাশাপাশি সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে।

পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, “বিকেল থেকেই পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।”

এদিকে পানির প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হলে বর্ষায় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়। এতে বাঁধগুলো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। ফলে প্রতিবছর নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হয় তিস্তা তীরবর্তী মানুষকে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়তে থাকে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার এবং রাত ৯টায় ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চায়ের চিনি বাদ দিয়ে গুড়-মধু খাচ্ছেন? জানুন আসল সত্য

হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বন্যার শঙ্কা

Update Time : ০৪:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ভারতের উজানে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে নদীপাড়ের মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উজানে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৩০ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার, অর্থাৎ পানি ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  আদালত ও অফিসের নতুন সময়সূচি ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের

গত মাসের শেষ দিকেও তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্প সময়ের জন্য বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। যদিও এক দিনের মধ্যেই পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও পানির স্তর বাড়তে শুরু করে। সোমবার সন্ধ্যার পর তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে রাতেই বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানির উচ্চতা বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যেই চরাঞ্চলে পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় চরবাসীর যাতায়াতে নৌকা ও ভেলাই এখন একমাত্র ভরসা। পানিবন্দি মানুষ, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

এর পাশাপাশি সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন  সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, “বিকেল থেকেই পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।”

এদিকে পানির প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হলে বর্ষায় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

আরও পড়ুন  উত্তরের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়। এতে বাঁধগুলো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। ফলে প্রতিবছর নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হয় তিস্তা তীরবর্তী মানুষকে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়তে থাকে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার এবং রাত ৯টায় ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।