তিস্তার পানি আবারও উত্তরাঞ্চলের মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় তীরবর্তী এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সময়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
ডালিয়া পয়েন্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় পানির প্রবাহ ছিল বিপৎসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচে, আর সকাল ৬টায় তা ছিল বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে। দ্রুত পানি বৃদ্ধির এই ধারা স্থানীয় প্রশাসন ও নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং দেশের উত্তরাঞ্চলেও টানা বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বেড়েছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের মূল কাঠামোর ৪৪টি জলকপাটই খুলে রাখা হয়েছে। এতে নদীর পানি দ্রুত প্রবাহিত হলেও নিম্নাঞ্চলের চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় পানি ঢোকার ঝুঁকি বেড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মতে, পরিস্থিতি আরও কিছু সময় একই রকম থাকতে পারে। নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা, চরাঞ্চল, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নদীর পানি আরও বাড়লে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আগের বন্যার অভিজ্ঞতা থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কৃষকেরা পাকা ও আধাপাকা ফসল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে উজানের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদীর কাছাকাছি না যাওয়া এবং বন্যা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।





























