ঢাকার আবহাওয়া নিয়ে জারি হওয়া সর্বশেষ সতর্কবার্তার সঙ্গে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করলে পাঠকের জন্য সংবাদটি আরও পরিপূর্ণ হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ু বিরাজ করছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রচুর জলীয়বাষ্প জমা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দিনের যেকোনো সময়, বিশেষ করে দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আকস্মিক দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জুলাই মাসে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের অনেক এলাকাতেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এতে নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বজ্রঝড়ের সময় বাতাসের গতি হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়ায় দুর্বল গাছপালা, টিনের ঘর, নির্মাণাধীন স্থাপনা কিংবা বিলবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ঝড় শুরু হলে নিরাপদ ভবনের ভেতরে অবস্থান করাই সবচেয়ে ভালো।
নদীপথ ব্যবহারকারীদের জন্যও আলাদা সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি থাকায় ছোট নৌকা, ট্রলার ও মাছ ধরার নৌযানকে খুব সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব এলাকায় ধান, সবজি বা অন্যান্য মৌসুমি ফসল মাঠে রয়েছে, সেসব এলাকার কৃষকদের আগাম সতর্ক থাকা উচিত। ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ চমকানোর সময় সেচযন্ত্র বা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার না করতেও বলা হয়েছে।
নগরবাসীর জন্যও কিছু সতর্কতা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, জলাবদ্ধ সড়কে চলাচলের সময় সতর্ক থাকা এবং বিদ্যুতের খুঁটি বা ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহীদের বৃষ্টির সময় গতি কমিয়ে চালাতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, খোলা মাঠ, নদী, পুকুর বা উঁচু স্থানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাত শুরু হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, তবে বৈদ্যুতিক লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করাই নিরাপদ। গাছের নিচে দাঁড়ানো কিংবা ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নতুন বুলেটিন প্রকাশ করা হবে। তাই রাজধানী ঢাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার বাসিন্দাদের নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যাদের নদীপথে যাতায়াত বা বাইরে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



























