বজ্রপাতে মৃত্যু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রসহ আবহাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করায় তারা বজ্রপাতের শিকার হন। একই ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও মুক্তাগাছা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন কলেজশিক্ষক এবং অন্যজন যুবক। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির সময় বাইরে অবস্থান করায় তারা বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।
নীলফামারী, পঞ্চগড় এবং চুয়াডাঙ্গাতেও বজ্রপাত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। নীলফামারীর ডিমলায় একজন এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলায় একজন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বাড়ির ছাদে অবস্থানকালে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার এক আত্মীয় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বগুড়ার আদমদীঘিতে মরিচ ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া শেরপুর সদর উপজেলার একটি মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান এক যুবক। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, কৃষিজমি, নদীর পাড় এবং উঁচু স্থানে অবস্থানকারীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, গাছের নিচে না দাঁড়ানো এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতে মৃত্যু রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


























