ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ: ৪ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ Logo প্লাস্টিকের ব্যাগে বিশ্বকাপ ট্রফি? কুকুরেয়ার ভিডিওর আসল রহস্য Logo হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা: সৌদির জন্য বড় হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা Logo ধূমপান ছাড়ার ৪ সহজ উপায়, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo চরমোনাই পীরের কড়া বার্তা: ইসলামের নামে একাধিক দল নিয়ে প্রশ্ন Logo ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস, এক রাতেই ফলোয়ারে চমক Logo এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ: ৭ পরিবর্তনে নতুন সম্ভাবনা Logo ঘুম না এলে রাতে করুন এই ৭ ব্যায়াম, মিলবে স্বস্তির ঘুম Logo ঘুমের অভাব কি ডায়াবেটিস ডেকে আনে? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত Logo শিশুর লাশ উদ্ধার: আলমারিতে মরদেহ, গণপিটুনিতে নারী নিহত | চাঞ্চল্যকর ঘটনা

স্পেন বিশ্বকাপ জয়: দুর্দান্ত জয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বসেরা

বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফি হাতে স্পেন দলের আনন্দ উদযাপনের মুহূর্ত।

১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বের শীর্ষে উঠে এসেছে স্পেন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছে লা রোহা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলই গড়ে দেয় ইতিহাস। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখানো স্পেন শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমো ও ওইয়ারসাবাল একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রাখেন। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুর্দান্ত সব সেভ করে দীর্ঘ সময় দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। প্রথমার্ধে একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলেও স্পেন আক্রমণের ধার কমায়নি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি আক্রমণেও ছিল নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে তারা গোলমুখে কার্যকর কোনো শট নিতে পারেনি, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে বিরল ঘটনা। লিওনেল মেসিও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠের চাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্ত আসে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে। পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দেন, আর সুযোগ বুঝে ফেরান তোরেস বল জড়িয়ে দেন জালে। গোলটি স্পেনকে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত। পরে তোরেস আরেকবার গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

যদিও আর্জেন্টিনা ম্যাচ হেরেছে, তবুও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ছিলেন দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মার। একের পর এক অসাধারণ সেভ করে তিনি স্পেনকে দীর্ঘ সময় হতাশ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের আক্রমণভাগ তাকে সমর্থন দিতে পারেনি। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় আর্জেন্টিনা আরও চাপে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার। এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং নতুন প্রজন্মের স্প্যানিশ ফুটবলের শক্তি, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতার বড় প্রমাণ হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ: ৪ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

স্পেন বিশ্বকাপ জয়: দুর্দান্ত জয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বসেরা

Update Time : ০৫:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বের শীর্ষে উঠে এসেছে স্পেন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছে লা রোহা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলই গড়ে দেয় ইতিহাস। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখানো স্পেন শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমো ও ওইয়ারসাবাল একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রাখেন। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুর্দান্ত সব সেভ করে দীর্ঘ সময় দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। প্রথমার্ধে একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলেও স্পেন আক্রমণের ধার কমায়নি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি আক্রমণেও ছিল নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে তারা গোলমুখে কার্যকর কোনো শট নিতে পারেনি, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে বিরল ঘটনা। লিওনেল মেসিও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠের চাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্ত আসে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে। পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দেন, আর সুযোগ বুঝে ফেরান তোরেস বল জড়িয়ে দেন জালে। গোলটি স্পেনকে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত। পরে তোরেস আরেকবার গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

যদিও আর্জেন্টিনা ম্যাচ হেরেছে, তবুও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ছিলেন দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মার। একের পর এক অসাধারণ সেভ করে তিনি স্পেনকে দীর্ঘ সময় হতাশ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের আক্রমণভাগ তাকে সমর্থন দিতে পারেনি। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় আর্জেন্টিনা আরও চাপে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার। এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং নতুন প্রজন্মের স্প্যানিশ ফুটবলের শক্তি, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতার বড় প্রমাণ হয়ে থাকবে।