বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি ফিফার সমালোচনার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি কিছু আর্জেন্টিনা ভক্তকে ‘নির্লজ্জ’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর থেকেই রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মিশরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিতে এবং লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে ম্যাচে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরেই ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিজের মতামত জানাতে সামনে আসেন ওমর সানী। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ফুটবলের সঙ্গে তার সম্পর্ক নতুন নয়। অভিনয়ে আসার আগে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ অনুসরণ করছেন। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবেই তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন বলে উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। তার দাবি, ইরান ও মিশরের মতো দলগুলোর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এ ধরনের অভিযোগ ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর বলে মত দেন তিনি।
ব্যক্তিগতভাবে ব্রাজিলের সমর্থক ওমর সানী বলেন, ব্রাজিলের পরাজয় তিনি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছেন। তার মতে, ব্রাজিল সেদিন ভালো খেলতে পারেনি বলেই হেরেছে। তাই নিজের পছন্দের দল বিদায় নেওয়ার পরও তিনি কোনো ধরনের অজুহাত খুঁজতে চান না এবং হারকে খেলাধুলারই অংশ হিসেবে দেখেন।
তবে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের বিজয় উদযাপনের ধরন তার ভালো লাগেনি বলে জানান তিনি। ওমর সানীর ভাষায়, “ব্রাজিল হেরেছে, আমি এটাকে অন্যায় বলি না। ব্রাজিল খারাপ খেলেছে, তাই হেরেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার কিছু নির্লজ্জ ভক্ত বিজয় উদযাপন করছে। এভাবে উল্লাস করার কোনো কারণ আমি দেখি না।”
ভিডিওর শেষদিকে নিজের বক্তব্য নিয়ে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চান এই অভিনেতা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন। তবে কোনো খেলোয়াড়কে ভালো লাগার অর্থ এই নয় যে, তার সমর্থকদের সব আচরণের সঙ্গে একমত হতে হবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন।


























