শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ছিল চরম শঙ্কা, উত্তেজনা আর অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা। মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে অবশেষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লাড প্রেশার মাপার যন্ত্রের ছবি শেয়ার করে এক দারুণ হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছেন আলবিসেলেস্তে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোল এবং বিরতির পর মোস্তাফা জিকোর লক্ষ্যভেদে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি। মাঝে দলের সেরা তারকা লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলে গ্যালারির বিমর্ষ দর্শকদের মনে কাতার বিশ্বকাপের ফিফা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের (DoFollow Link) স্মৃতি ভেসে ওঠে এবং চরম হতাশা নেমে আসে।
তবে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল জেনো হাতের মুঠোয় এনে দিলেন ফুটবল জাদুকর মেসি। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর মাত্র ১৩ মিনিটের এক টর্নেডো ঝড়ে ৩টি গোল করে প্রতিপক্ষ মিসরকে স্তব্ধ করে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা ফুটবল ইতিহাসে এক স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন হয়ে থাকবে।
আর্জেন্টাইনদের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের মূল নায়ক ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি নিজে। ৭৯ মিনিটে এই মহাতারকার দুর্দান্ত এক পাস থেকে প্রথমে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো এবং এর ঠিক ৪ মিনিট পরেই এক জাদুকরী শটে নিজে গোল করে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে সমতা ফেরান মেসি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ে অসাধারণ এক হেডের সাহায্যে জয়সূচক গোলটি করেন মিডফিল্ডার এনসো ফার্নান্দেজ। হারতে হারতে শেষ মুহূর্তে এমন অবিশ্বাস্য জয়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে মাঠেই কেঁদে ফেলেন মেসি, যা দেখে সতীর্থরাও জড়িয়ে ধরে আর্জেন্টিনার জয়ের উল্লাস উদযাপন শুরু করেন।
অধিনায়ককে শূন্যে ছুড়ে মার্তিনেস, রোমেরো ও আলভারেজদের এই বাঁধভাঙা উদযাপন আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের শেষে মার্টিনেজের পোস্ট করা রক্তচাপ মাপার যন্ত্রের ছবিটিই প্রমাণ করে, কতটা স্নায়ুচাপ পার করে কোয়ার্টারের টিকিট কেটেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।


























