আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার জন্য শহীদ ওসমান হাদীকে একাধিকবার রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, জামায়াত আমিরের পিএস পরিচয়দানকারী জুবায়ের নামের এক ব্যক্তি ওসমান হাদীকে ওই আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারংবার অনৈতিক পরামর্শ দিয়েছিলেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্যমতে, বুয়েট শিবিরের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত এই জুবায়ের স্পষ্ট করে বলেছিলেন যেন ঢাকা-৮ আসনটি সাদিক কাইয়ুমের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চাপের মুখেও আপসহীন শহীদ ওসমান হাদী দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি মাত্র ৫০০ ভোট পেলেও নিজের সিদ্ধান্ত বদলাবেন না এবং এই নির্দিষ্ট আসন থেকেই শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে লড়বেন।
রহস্যজনক ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড ঘটার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় জামায়াত শেষ পর্যন্ত সাদিক কাইয়ুমকে আর দলীয় নমিনেশন বা মনোনয়ন দেয়নি বলে রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক অপরাধ ও আইন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রিপোর্টের মতো এই ঘটনাটিও বর্তমান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন তুমুল তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত জুবায়েরের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়ে তিনি জানান, এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন আমেরিকায় ছিলেন এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে ফিরে একটি নামী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং কিছুদিন আগে ওসমান হাদীর ভাইও তাকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন স্পষ্ট করেন যে, তিনি জুবায়েরকে সরাসরি খুনের দায়ে সন্দেহের চোখে না দেখলেও ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড এর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রশাসনের এই ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান জানা জরুরি। জুবায়ের এখনো দেশের মাটিতে অবস্থান করছেন নাকি আইনি জটিলতা এড়াতে আবারও গোপনে আমেরিকায় ব্যাক করেছেন, তা উদঘাটন করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সত্য আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই এবং এই স্পর্শকাতর খুনের পেছনে থাকা মূল কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। শহীদ ওসমান হাদীর পরিবার যেন প্রকৃত বিচার পায়, সেজন্য এই নির্বাচনী সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত ও জুবায়েরের পরিচয় নিশ্চিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।




























