ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারি বিতর্ক, ফিফার কাছে মিশরের অভিযোগ Logo মার্কিন হামলার পরই ইরানের পাল্টা আঘাত, ৮৫ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি Logo রহস্য ঘনীভূত! আরব সাগরে উধাও কে২ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ Logo স্বর্ণের দাম কমেছে, আজকের নতুন দর Logo জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা, লিটারে কমল ১৯ টাকা Logo পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি বন্ধ, সড়ক ও নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন Logo কঙ্গনার সিনেমার বিরুদ্ধে ২৫০ কোটির মামলা Logo ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড Logo কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনাকে পেল সুইজারল্যান্ড Logo ইরানের তেল বিক্রিতে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন হামলার পরই ইরানের পাল্টা আঘাত, ৮৫ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫০২

মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা অভিযানের দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ইরানে সামরিক হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে। তবে এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাকে আইআরজিসি যুদ্ধবিরতির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বাহরাইন ও কুয়েতে পাল্টা হামলার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে এর পরিণতির জন্য দায়ী করা হয়েছে।

পাল্টা হামলার আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে এ হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আগ্রাসন বলে উল্লেখ করা হয়।

গত মঙ্গলবার প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের সাত দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চলাকালে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই সময় হামলার ঘটনাকে তেহরান অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের ৮০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মার্কিন হামলার পরপরই ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে জানায়, এ পদক্ষেপের জবাবে তারা ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচলের বৈধ রুট নির্ধারণের অধিকার কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রয়েছে। এ বিষয়ে বিদেশি শক্তির কোনো হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে দুই দেশের সমঝোতা স্মারকের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ ইরানে হামলা, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সবশেষে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহবি দাবি করেন, বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারি বিতর্ক, ফিফার কাছে মিশরের অভিযোগ

মার্কিন হামলার পরই ইরানের পাল্টা আঘাত, ৮৫ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি

Update Time : ০১:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ইরানে সামরিক হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে। তবে এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাকে আইআরজিসি যুদ্ধবিরতির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বাহরাইন ও কুয়েতে পাল্টা হামলার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে এর পরিণতির জন্য দায়ী করা হয়েছে।

পাল্টা হামলার আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে এ হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আগ্রাসন বলে উল্লেখ করা হয়।

গত মঙ্গলবার প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের সাত দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চলাকালে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই সময় হামলার ঘটনাকে তেহরান অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের ৮০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মার্কিন হামলার পরপরই ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে জানায়, এ পদক্ষেপের জবাবে তারা ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচলের বৈধ রুট নির্ধারণের অধিকার কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রয়েছে। এ বিষয়ে বিদেশি শক্তির কোনো হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে দুই দেশের সমঝোতা স্মারকের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ ইরানে হামলা, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সবশেষে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহবি দাবি করেন, বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।