প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎ হয়েছে ঢাকা সেনানিবাসে, যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং তার তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বহু বছরের পরীক্ষিত ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
বৈঠকে মূলত দুই দেশের মধ্যে সামরিক পর্যায়ে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
আইএসপিআর-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই বৈঠক দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ অনুশীলনের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎ দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




























