গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করে গাজায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফলে শান্তি চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহু জানান, গাজার পুনর্গঠন শুরুর আগে হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিতে হবে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকাকে স্থায়ীভাবে সামরিকমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন। তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হলে ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হামাসকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। সেই পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং একই সময়ে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পরবর্তী আলোচনায় এই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
ইসরায়েলের আপত্তির পর আলোচনায় যুক্ত পক্ষগুলো জানায়, সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের আগে নিরাপত্তা ইস্যুকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেল আবিব।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাব এবং নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থানের মধ্যে এই মতপার্থক্য ভবিষ্যৎ আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও উভয় পক্ষই গাজায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার কথা বলছে, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ ও শর্ত নিয়ে এখনও ঐকমত্য তৈরি হয়নি।




























