ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হরমুজ প্রণালী সংকটে সহায়তার প্রস্তাব শি জিনপিংয়ের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ৫১৩

চিত্রঃ হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শি জিনপিং

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ তথ্য প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শি জিনপিং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা দেখতে আগ্রহী। তিনি বলেছেন, চীনা প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, শি জিনপিং তাকে বলেছেন, “আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তবে আমি অবশ্যই তা করতে চাই।” ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও এতে ঝুঁকির মুখে পড়ে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির কারণে চীনেরও এ অঞ্চলে বিশেষ স্বার্থ রয়েছে। তার মতে, বেইজিং চাইবে যেন হরমুজ প্রণালী সবসময় সচল ও নিরাপদ থাকে। ট্রাম্পের ভাষায়, “যে দেশ এত বিশাল পরিমাণ তেল আমদানি করে, ইরানের সঙ্গে তাদের অবশ্যই একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তাই তারাও চাইবে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকুক।” আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন যদি সত্যিই এ ইস্যুতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

চীন বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটিতে তাদের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি চীন সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক প্রভাবও আরও বাড়াতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

হরমুজ প্রণালী সংকটে সহায়তার প্রস্তাব শি জিনপিংয়ের

Update Time : ০৬:০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ তথ্য প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শি জিনপিং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা দেখতে আগ্রহী। তিনি বলেছেন, চীনা প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, শি জিনপিং তাকে বলেছেন, “আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তবে আমি অবশ্যই তা করতে চাই।” ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও এতে ঝুঁকির মুখে পড়ে।

আরও পড়ুন  চুক্তিতে না এলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির কারণে চীনেরও এ অঞ্চলে বিশেষ স্বার্থ রয়েছে। তার মতে, বেইজিং চাইবে যেন হরমুজ প্রণালী সবসময় সচল ও নিরাপদ থাকে। ট্রাম্পের ভাষায়, “যে দেশ এত বিশাল পরিমাণ তেল আমদানি করে, ইরানের সঙ্গে তাদের অবশ্যই একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তাই তারাও চাইবে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকুক।” আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন যদি সত্যিই এ ইস্যুতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

আরও পড়ুন  ইরানের উপহাসে ট্রাম্পের পারমাণবিক হামলার হুমকি বিতর্কে

চীন বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটিতে তাদের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প সফরে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে শির সতর্কবার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, যদি চীন সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক প্রভাবও আরও বাড়াতে পারে।