ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যু: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মা-মেয়েসহ ৩ জন নিহত Logo লামিন ইয়ামালের বিলাসবহুল ঘড়ি সংগ্রহে নজর কাড়ছে যে টাইমপিসগুলো Logo সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা? Logo আইফোন ১৮ প্রো লঞ্চের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ, সেপ্টেম্বরেই আসছে নতুন আইফোন? Logo ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ: আয়োজক দেশ, সূচি ও নতুন ফরম্যাটে যা জানা গেছে Logo কম আলোতে গাছ: কম যত্নেই সতেজ থাকবে ৯টি ইনডোর প্ল্যান্ট Logo প্রবাসী আয় উৎস: সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান Logo বিকাশে লেনদেন: স্মার্ট ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন অধ্যায় Logo অনন্যা পান্ডের হোয়াইট ক্যামেলিয়া ব্রাইডাল লুক: ১০০ ক্যারেট হীরায় নজরকাড়া রাজকীয় সাজ Logo রাঙ্গামাটিতে বন্যায় কৃষি-মৎস্যে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি

এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ: ৭ পরিবর্তনে নতুন সম্ভাবনা

বায়লা ফিউচার সামিট–২০২৬-এ প্রযুক্তিনির্ভর পোশাকশিল্প নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্প এখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন দেশের শিল্পনেতা, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকেরা।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী বায়লা ফিউচার সামিট–২০২৬’-এ বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে শুধু কম খরচে উৎপাদন করলেই সফল হওয়া যাবে না। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং টেকসই শিল্পব্যবস্থাই আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্প লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। পরিবর্তিত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের চাহিদা পূরণে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক ও মালিকের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার টেকসই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখছে।

সম্মেলনে বক্তারা জানান, এআই, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অটোমেশন গ্রহণে দেরি করলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়বে। নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের শুধু উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলা, উন্নত নকশা তৈরি, নতুন বাজার খোঁজা এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্য উৎপাদনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, কোটা ব্যবস্থা শেষ হওয়া এবং করোনা মহামারির মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখন এলডিসি-পরবর্তী সময়ে লজিস্টিকস উন্নয়ন, বাজার বহুমুখীকরণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও পরিবেশগত মান ও টেকসই উৎপাদন ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মত দেন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও।

সম্মেলনের আরেকটি অধিবেশনে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন শুধু পোশাক নয়, বরং মানসম্মত উৎপাদন, নির্ভরযোগ্যতা, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নও প্রত্যাশা করেন। তাই এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্প আধুনিকায়নের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’-কে উৎকর্ষের প্রতীকে পরিণত করতে সরকার, উদ্যোক্তা ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যু: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মা-মেয়েসহ ৩ জন নিহত

এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ: ৭ পরিবর্তনে নতুন সম্ভাবনা

Update Time : ১১:২৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্প এখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন দেশের শিল্পনেতা, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকেরা।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী বায়লা ফিউচার সামিট–২০২৬’-এ বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে শুধু কম খরচে উৎপাদন করলেই সফল হওয়া যাবে না। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং টেকসই শিল্পব্যবস্থাই আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি: যুক্তরাষ্ট্রে এখনো দ্বিতীয়, কার অবস্থান কোথায়?

শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্প লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। পরিবর্তিত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের চাহিদা পূরণে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক ও মালিকের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার টেকসই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখছে।

সম্মেলনে বক্তারা জানান, এআই, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অটোমেশন গ্রহণে দেরি করলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়বে। নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের শুধু উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলা, উন্নত নকশা তৈরি, নতুন বাজার খোঁজা এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্য উৎপাদনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন  বাহরাইন-কুয়েত-কাতারে ইরানের হামলা

ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, কোটা ব্যবস্থা শেষ হওয়া এবং করোনা মহামারির মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখন এলডিসি-পরবর্তী সময়ে লজিস্টিকস উন্নয়ন, বাজার বহুমুখীকরণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও পরিবেশগত মান ও টেকসই উৎপাদন ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মত দেন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সবচেয়ে বেশি, কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

সম্মেলনের আরেকটি অধিবেশনে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন শুধু পোশাক নয়, বরং মানসম্মত উৎপাদন, নির্ভরযোগ্যতা, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নও প্রত্যাশা করেন। তাই এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্প আধুনিকায়নের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’-কে উৎকর্ষের প্রতীকে পরিণত করতে সরকার, উদ্যোক্তা ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।