ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ দেশে ফিরেছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত আনা হয়। ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা ৯ বাংলাদেশির মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে। তাদের বাড়ি নড়াইল, বরিশাল, রাজবাড়ী ও খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নড়াইলের শহীদ মল্লিকের মেয়ে মুক্তা খানম (৩৪), একই জেলার ইমরান শিকদারের মেয়ে খাদিজা বেগম (৩৬) ও তার মেয়ে আয়েশা খাতুন (৮), শহীদ মল্লিকের মেয়ে জাহানারা বেগম (৩৯) ও তার মেয়ে রুকসানা খাতুন (৫), বরিশালের খগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে তপন মণ্ডল (২৯), রাজবাড়ীর নিজাম মোল্লার ছেলে আশিক মোল্লা (২৮), খুলনার সন্তোষ সরকারের ছেলে তন্ময় সরকার (২৩) এবং একই জেলার বিধান চন্দ্র বাচ্চুর ছেলে রামকৃষ্ণ বাচ্চু (২০)।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ভালো কাজের আশায় দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে শিশুসহ ওই ৯ বাংলাদেশি প্রায় তিন বছর আগে অবৈধভাবে বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে যান। সেখানে তারা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ক্ষেত-খামারে কাজ করতেন।
কাজ করার সময় ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পরে তাদের আদালতে নেওয়া হলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা শেষ হওয়ার পর একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা তাদের কারাগার থেকে ছাড়িয়ে শেল্টার হোমে রাখে।
এরপর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া শেষে ভারত সরকার তাদের দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ট্রাভেল পারমিট দেয়। সেই পারমিটের মাধ্যমেই শনিবার তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তাদের নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ফিল্ড ওয়ার্কার শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের প্রথমে তাদের নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখা হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে বিভিন্ন সময় ভারত থেকে কারাভোগ শেষে বাংলাদেশিদের বেনাপোল দিয়ে ফেরত আনার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়ে কারাভোগ করা ৯ বাংলাদেশি যুবক বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরেছিলেন এবং পরে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এনজিওর কাছে দেওয়া হয়।
এ ধরনের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সাধারণত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলো সমন্বয় করে কাজ করে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের সরাসরি পরিবারের কাছে পাঠানোর আগে অনেক ক্ষেত্রে শেল্টার হোমে রাখা হয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়।



























