খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন পাবনা জেলা বিএনপির নেতারা। সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানান নেতারা। তাঁদের দাবি, ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে যেন দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
খালেদ হোসেন পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখান এবং ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের কাছে দলের নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও তাঁরা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদ হোসেনের আচরণ নিয়ে দলীয় পর্যায়েও অসন্তোষ রয়েছে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে জনমনে ভয়ভীতি সৃষ্টি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে খালেদ হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, একজন ঠিকাদারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে বিএনপির কিছু সুবিধাভোগী নেতা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া উচিত। কিন্তু অভিযোগকারীরা এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা দেখাতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তাঁদের নজরে এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আইডি থেকে খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাই বিষয়টি দলীয়ভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ বলেন, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি এবং কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সেই শৃঙ্খলা নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। লিখিত অভিযোগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকারসহ কয়েকজন নেতার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে এখন বিষয়টি দলীয়ভাবে কীভাবে দেখা হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে।



















