ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ৮ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাজে বাড়ে হৃদ্‌রোগ-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

একটানা টেবিলে বসে কাজ বাড়াচ্ছে হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা বর্তমান কর্পোরেট জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এটি নীরবে শরীরে নানা মারাত্মক ব্যাধির জন্ম দিচ্ছে। অফিসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে সময় কাটালে বাহ্যিকভাবে আরামদায়ক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে হৃদরোগের ঝুঁকি জ্যামিতিক হারে বাড়ে। শারীরিক পরিশ্রম না থাকা এবং ডেস্কে একটানা অলস সময় কাটানোর ফলে লিভারের ক্ষতিসহ রক্তে ইনসুলিনের ভারসাম্যে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (NIH)-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, টানা চেয়ারে বসে থাকা মানুষের হৃদযন্ত্র ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। কাজের অতিরিক্ত চাপ, মানসিক উৎকণ্ঠা ও সময়ের মাঝে কাজ শেষ করার দুশ্চিন্তা শরীরের ক্ষতিকর হরমোন বাড়িয়ে দেয়। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্থূলতার প্রাদুর্ভাব ঘটে।

একটানা দীর্ঘ সময় হাত-পায়ের নড়াচড়া বন্ধ থাকলে হাত ও পায়ের মাংসপেশি তার কর্মক্ষমতা হারাতে শুরু করে। এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং সার্বিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটে। ক্যালরি খরচ কম হওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও হার্ট অ্যাটাকের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের বিষাদময় প্রভাব এড়াতে বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটাচলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৪ হাজার পা হাঁটা ব্যক্তির তুলনায় যারা দৈনিক ৮ হাজার বা ১০ হাজার পা হাঁটেন, তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা পর পর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো কিংবা সামান্য কয়েক মিনিট হাঁটার অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি। এতে থমকে যাওয়া রক্ত সঞ্চালন আবার গতি ফিরে পায় এবং পেশির নমনীয়তা বজায় থাকে। অফিসে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং সামান্য দূরত্বের পথ হেঁটে অতিক্রম করাও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

পরিশেষে, জীবিকার তািগদে ডেস্কে কাজ করতে হলেও নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া বাদ দেওয়া যাবে না। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অপকারিতা বুঝে আজই প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। নিয়মিত সচেতনতা ও সামান্য কিছু শারীরিক কসরতই আপনাকে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্ত রেখে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন উপহার দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা ৮ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাজে বাড়ে হৃদ্‌রোগ-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

Update Time : ১১:১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা বর্তমান কর্পোরেট জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এটি নীরবে শরীরে নানা মারাত্মক ব্যাধির জন্ম দিচ্ছে। অফিসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে সময় কাটালে বাহ্যিকভাবে আরামদায়ক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে হৃদরোগের ঝুঁকি জ্যামিতিক হারে বাড়ে। শারীরিক পরিশ্রম না থাকা এবং ডেস্কে একটানা অলস সময় কাটানোর ফলে লিভারের ক্ষতিসহ রক্তে ইনসুলিনের ভারসাম্যে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (NIH)-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, টানা চেয়ারে বসে থাকা মানুষের হৃদযন্ত্র ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। কাজের অতিরিক্ত চাপ, মানসিক উৎকণ্ঠা ও সময়ের মাঝে কাজ শেষ করার দুশ্চিন্তা শরীরের ক্ষতিকর হরমোন বাড়িয়ে দেয়। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্থূলতার প্রাদুর্ভাব ঘটে।

আরও পড়ুন  আন্তোনেলা রোকুজ্জো: মেসির স্ত্রী থেকে বিশ্বজুড়ে ফিটনেস আইকন

একটানা দীর্ঘ সময় হাত-পায়ের নড়াচড়া বন্ধ থাকলে হাত ও পায়ের মাংসপেশি তার কর্মক্ষমতা হারাতে শুরু করে। এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং সার্বিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটে। ক্যালরি খরচ কম হওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও হার্ট অ্যাটাকের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন  ওজন কমাতে চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্সসিড না ইসবগুল?

এই নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের বিষাদময় প্রভাব এড়াতে বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটাচলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৪ হাজার পা হাঁটা ব্যক্তির তুলনায় যারা দৈনিক ৮ হাজার বা ১০ হাজার পা হাঁটেন, তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা পর পর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো কিংবা সামান্য কয়েক মিনিট হাঁটার অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি। এতে থমকে যাওয়া রক্ত সঞ্চালন আবার গতি ফিরে পায় এবং পেশির নমনীয়তা বজায় থাকে। অফিসে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং সামান্য দূরত্বের পথ হেঁটে অতিক্রম করাও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন  নিয়মিত ব্লাড প্রেশারের ওষুধ খাচ্ছেন? কিডনির ঝুঁকি নিয়ে যা বলছে গবেষণা

পরিশেষে, জীবিকার তািগদে ডেস্কে কাজ করতে হলেও নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া বাদ দেওয়া যাবে না। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অপকারিতা বুঝে আজই প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। নিয়মিত সচেতনতা ও সামান্য কিছু শারীরিক কসরতই আপনাকে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্ত রেখে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন উপহার দিতে পারে।